মঙ্গলবার (১ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। পদযাত্রা শেষে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ‘জুলাই ঐক্যর ‘মার্চ ফর জুলাই রিভাইভস’ কর্মসূচি থেকে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসরাফিল বলেন, যেসকল সাংবাদিকদের নামে জেলায় জেলায় মামলা হয়েছে তাদের অগ্রগতি কোথায়? তারা যদি নিষ্পাপ হয়, তাদেরকে ক্লিয়ারেন্স দেন, তারা কোন অন্যায় করে নাই। আর যদি অন্যায় করে থাকে তাহলে তাদেরকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসুন। আমরা আরও কিছু স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা চুয়াল্লিশজন সচিব আমলার তালিকা দিয়েছিলাম। আমরা সরকারকে বলেছিলাম আপনারা এই সচিবদের এখান থেকে সরিয়ে ফেলেন।
তিনি বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচজন আমলাকে সচিবালয় থেকে সরিয়েছে। বাকি ঊনচল্লিশজন আমলা এখনও তাদের স্বপদে বহাল আছে। এই সচিবালয়ে বিশৃঙ্খলা, এনবিআরে বিশৃঙ্খলা, এনটিআরসিএতে বিশৃঙ্খলা, আমরা দেখেছি জায়গায় জায়গায় বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। এই বিশৃঙ্খলা কারা ঘটাচ্ছে?
জুলাই ঐক্যের এই নেতা বলেন, আমরা তা স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি। যারা যে চেয়ারে ছিল সেই চেয়ারে আছে। আমরা দেখেছি যেসকল ডিসিদের নির্দেশনায়, যেসকল এসপিদের নির্দেশনায় পুরো জুলাই মাস ৩৬ দিন ছাত্রজনতার উপর গুলি চালানো হল। সেই সকল ডিসিদের বাতিল না করে তাদের পাঠানো হল বিভিন্ন জেলায় জেলায়। তারা সেই জেলায় গিয়ে সেই অপকর্মগুলোই করছে যেগুলো তারা বিভিন্ন জায়গায় করেছিল জুলাই মাসে।
এই সংগঠক আরও বলেন, আমরা সরকারকে অনুরোধ করে বলতে চাই, আপনি হয় সংস্কার করুন, তাদেরকে অপসারণ করুন আর না হয় স্বসম্মানে নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে দেন। ছাত্রজনতা এখনো আপনার সাথে আছে। যদি আপনি ছাত্র জনতার মুখের কথা না বুঝতে পারেন, মনের কথা বুঝতে না পারেন, তাহলে আপনার ক্ষমতায় থাকার কোন অধিকার নাই।
ইসরাফিল বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে দুটি কথা, আমরা দেখছি। কোন কোন দল নিজ উদ্যোগে জুলাই ঘোষণাপত্র দিতে যাচ্ছেন। তাদেরকে স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, আপনাদের ২৪ এর ৩ আগস্ট বলা হয়েছিল এক দফা ঘোষণা পত্র দেওয়ার জন্য। আপনারা সেদিন ঘোষণা পত্র দেন নাই। সেদিন ঘোষণাপত্র দিলে আজকে এই সরকারের এই পরিণতি হত না।
তিনি বলেন, জুলাই ঘোষণা পত্রের জন্য আমাদের রাস্তায় নামতে হত না। আপনাদের ঘোষণাপত্র দেওয়ার কোন অধিকার নাই। ঘোষণাপত্র এখন সরকারকে দিতে হবে। যদি সরকার ব্যর্থ হয় তাহলে ছাত্র জনতা যেভাবে জুলাই অভ্যুত্থান করেছিল ঠিক একইভাবে ছাত্র জনতার দাবি আদায় করে নিবে।
এনএইচ