নগরীর মাতুয়াইলে ৬ মাস ধরে খাবার পানির তীব্র সংকট চলছে। ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ ও ময়লায় ভরপুর। মানুষ নোংরা পানি পান করে আক্রান্ত হচ্ছেন নানা রোগব্যাধিতে। বিশেষ করে ওই এলাকায় বাসাবাড়িতে পানির হাহাকার চলছে।
গোসল, ওজু, রান্না-বান্নাসহ পানিনির্ভর সব কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাসিন্দারা কিনে ও আশপাশের ব্যক্তিগত পাম্প থেকে পানি সরবরাহ করে কোনো রকমে জীবনধারণ করছে।
সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মাতুয়াইল পুরাতন মসজিদ সংলগ্ন এলাকা, বাইনারবাগ, বকুলতলা, নিমতলা, দারোগা বাড়ি রোড, মাতুয়াইল ভূঁইয়া বাড়ি, কেরানিপাড়া, শান্তিবাগ, রহমতপুর, কদমতলায় পানির তীব্র সংকট রয়েছে।
এসব এলাকায় মাঝে মধ্যে ওয়াসার পানি সরবরাহ করা হলেও পানি কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত। এসব পানি শুধু পান অনুপযোগী নয় দৈনন্দিন কাজেও ব্যবহার করা যায় না। উপায়ান্তর না পেয়ে অনেকে এসব পানি ব্যবহার করে নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন।
দক্ষিণ মাতুয়াইল পুরাতন মসজিদ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, পানি মানুষের জীবন রক্ষাকারী, সেই পানির সংকটে ১ বছর ধরে ভুগছি। প্রায় সময় ওয়াসার পানির লাইনে পানি থাকে না। মাঝে মধ্যে লাইনে পানি এলেও তা খাওয়া যায় না।
এমনকি এ পানি ব্যবহার করলে হাতেও দুর্গন্ধ হয়। সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কাজের জন্য রাস্তা কেটে নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। সেজন্য ভ্যান বা রিকশায়ও পানি সরবরাহ করতে পারছি না।
মাতুয়াইল দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল জলিল মিয়া বলেন, পানির দুর্ভোগের বর্ণনা বলে শেষ করা যাবে না। পানির জন্য বাসাবাড়িতে ঠিকমতো গোসল, কাপড় ধৌত করা, রান্না-বান্না, নামাজের অজুসহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি।
গৃহিণী তাছলিমা আক্তার বাইনারবাগ এলাকায় মরহুম নুরুল ইসলামের কারখানা সংলগ্ন ব্যক্তিগত পানির পাম্প থেকে পানি নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।
তিনি বলেন, এক মাস ধরে ওয়াসার লাইনে পানি নেই। আর পানি এলেও তা ব্যবহার অনুপোযোগী।
পানির জন্য রান্না করতে পারছি না। মাতুয়াইলের বাসিন্দা মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, এলাকায় পানির পাম্প অপারেটররা ঠিকমতো পানি সরবরাহ করে না। এতে এলাকায় পানির সংকট দেখা দেয়।
তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কাজের জন্য ভেকু দিয়ে রাস্তায় মাটি কাটার সময় পানির পাইপগুলো ফেটে লিকেজ হয়েছে। এতে ওইসব লিকেজ দিয়ে ময়লা পানি ওয়াসার পানির পাইপে ঢুকছে।
মডস জোন-৭ পানির পাম্প-১ এর অপারেটর মনিরুজ্জামান ও আবদুস সালাম বলেন, ১৮ বছর পূর্বে এ পাম্প চালু হয়েছে। তখনকার তুলনায় এ এলাকায় মানুষ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে পানির চাহিদাও বেড়েছে। এলাকায় কলকারখানাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এসব কারখানায় প্রচুর পরিমাণে পানি ব্যবহৃত হয়। এ পাম্প থেকে প্রতি মিনিটে পানি উৎপাদন হয় ১৭ ঘন লিটার। প্রয়োজন প্রতি মিনিটে ৩ হাজারেরও অধিক ঘন লিটার। অনেকে চোরাই পানির লাইন নিতে গিয়ে ওয়াসার পানির লাইন লিকেজ করে রেখেছে।
অনেকে পুরাতন লাইন বাদ দিয়ে নতুন লাইন নিচ্ছে। পুরাতন লাইনের লিকেজ বন্ধ না করে মাটি চাপা দিয়ে রেখেছে। ওইসব লিকেজ দিয়ে ময়লা পানি ঢুকছে।
ডিএসসিসি ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. সামসুদ্দিন ভূঁইয়া সেন্টু বলেন, মাতুয়াইল দক্ষিণপাড়া পুরাতন মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে পানির সংকটে রয়েছে। সেখানে একটি পানির পাম্প স্থাপন জরুরি।
ওই এলাকায় পানির পাম্প স্থাপনের জন্য জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ যদি জায়গা দেয় ২০/২৫ দিনের মধ্যে পানির পাম্প স্থাপন করার চেষ্টা করব। যুগান্তর





