মূল্যস্ফীতি ও বাজেটের ওপর চাপ কমানো এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নবম পে-স্কেলটি দুই বছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এক্ষেত্রে স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দিতে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর আওতায় ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে মূল বেতন মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর ভাতাসমূহ ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর হবে

সর্বশেষ সরকারি পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। অর্থাৎ সরকারি চাকরিজীবীরা দীর্ঘ ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোতে বেতন পাচ্ছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য আরেকটি কমিটি গঠন করে। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ের পরিস্থিতি ভালো না হওয়ায় পে-স্কেল বাস্তবায়নে অর্থের জোগান দেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এক বছরে এটি বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারকে ব্যাংক থেকে আরো ঋণ নিতে হতে পারে অথবা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) কাটছাঁট করতে হতে পারে। সাধারণত এডিবি বরাদ্দের ৮০ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়। চলতি বছরের ৩ লক্ষ কোটি টাকার এডিবির অলিখিত অংশ বা প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার মতো যে বাড়তি অংশ থাকবে, তা সরকার এই পে-স্কেলের কাজে ব্যবহার করতে পারে। তবে ওপরের গ্রেডগুলোর চেয়ে নিচের গ্রেডগুলোর জন্য বেতন বৃদ্ধি বেশি জরুরি ছিল।

তিনি আরো বলেন, পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে বাজারে অর্থ সরবরাহ বাড়লেও সেবা বা পণ্যের সরবরাহ বাড়বে না, যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে। ইতোমধ্যেই দেশ প্রায় ৮ থেকে ৮.৫ শতাংশ উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে রয়েছে। এর ওপর নতুন করে মূল্যস্ফীতি বাড়লে বাসাভাড়া, যাতায়াত, বিনোদন এবং খাদ্যপণ্যের (যেমন প্রসেসড ফুড) ওপর এর বড় প্রভাব পড়বে। এই বাড়তি মূল্যস্ফীতি বেসরকারি খাতে কর্মরত বা স্বকর্মসংস্থানে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য একটি বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

এমএম