স্বল্প সময়ে দ্রুত ডিজিটাইজেশন হওয়ায় বাংলাদেশ হ্যাকারদের বড় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

এ থেকে সুরক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্বে তথ্য-প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী সিবেট উপলক্ষে জার্মানির হ্যানোভারে অবস্থানরত জয় এক সাক্ষাৎকারে মেলার আয়োজকদের এ কথা বলেন।

সিবেট লিখেছে, আইসিটির আন্তর্জাতিক বাজারে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ দেশ হয়ে ওঠার পথে রয়েছে বাংলাদেশ।

গত সাত বছরে বাংলাদেশে তথ্য-প্রযুক্তি খাতে অগ্রগতির নানা দিক তুলে ধরে জয় বলেন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার সময় দেশের শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ ডিজিটাল সেবার আওতায় ছিল। বর্তমান সরকার তা ৩৫ শতাংশে নিয়ে গেছে।

সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে বাংলাদেশের সাইবার ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন করা হয় সজীব ওয়াজেদ জয়কে। জানতে চাওয়া হয়, বাংলাদেশকে এখন হ্যাকারদের ‘এক নম্বর টার্গেট’ বলা হচ্ছে কেন?

জবাবে জয় বলেন, এভাবে ক্রম ঠিক করা কঠিন।তবে সিকিউরিটি সলিউশন প্রোভাইডার ক্যাসপরস্কি বাংলাদেশকে ‘হ্যাকারদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু’ বলছে।

“আমার মনে হয়, এর কারণ সম্ভবত আমরা সবচেয়ে দ্রুত গতিতে ডিজিটাইজড হচ্ছি।”

এর ব্যাখ্যায় জয় বলেন, বাংলাদেশে সরকারি সেবা খাতের ডিজিটাইজেশন হচ্ছে। সরকারের ফোকাস হলো- দ্রুত ডিজিটাইজড করা এবং তা দক্ষতার সঙ্গে যতো দ্রুত সম্ভব করা।

“আমরা এটাকে ভার্সনটু তে উন্নীত করতে চাইছি। আমাদের অনেক সিস্টেম এখনও ভার্সন ওয়ানে রয়েছে। সেগুলো টার্গেট করাও সহজ।

“বাংলাদেশ যেহেতু অনলাইনে এসেছে এবং সরকারি সেবার পাশাপাশি বহু কোম্পানির ডিজিটাইজেশন হচ্ছে... প্রসার যতো হচ্ছে দুর্ভাগ্যজনকভাবে টার্গেট হিসেবেও বড় হয়ে উঠছে,” বলেন জয়।

তিনি জানান, খরচ কমাতে বাংলাদেশে ডিজিটাইজেশনের অনেক কাজই স্থানীয় কোম্পানিকে দিয়ে করাতে হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র ও ব্যাংকের মতো বিশেষ খাত ছাড়া প্রায় ৮০ শতাংশ সরকারি সেবা ডিজিটাইজেশনের কাজ স্থানীয় কোম্পানি করেছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট মেসেজিং সিস্টেমে ঢুকে আট কোটি ডলার হাতিয়ে নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের একটি প্রকল্পের অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাইজেশন হয়েছে। আর তা বাস্তবায়ন করেছে বিদেশি কোম্পানি।

বাংলাদেশে তথ্য-যোগাযোগ প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের জন্য তরুণদের সহজে এর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কথা বলেন জয়।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ খাতে দ্রুত দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, সরকার আগামী তিন বছরে ৭৫ হাজার আইটি পেশাজীবী গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।

এআইজে