সাভারে এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী ওই ধর্ষকের লোকজন ধর্ষিতার এক স্বজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে সাভার পৌর এলাকার জামসিং মহল্লায়। নিহতের নাম সেলিম মিয়া (৪০)।
গত শনিবার কবির হোসেন নামে এক ব্যক্তি ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ বুধবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে কবিরকে জামসিং মহল্লার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।
এদিকে থানায় মামলা দায়ের ও গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে কবিরের লোকজন বুধবার রাত ১১টার দিকে ধর্ষিতার পরিবারের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধর্ষিতার দুর সর্ম্পকের আত্মীয় সেলিম নামে এক প্রতিবেশী বাধা দিলে কবিরের সন্ত্রাসী বাহিনী তার পেটে ধারাল চাকু ঢুকিয়ে দেয়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। জানা গেছে, ধর্ষক কবির হোসেন শিশুটির আপন ফুপা।
শিশুটির বাবা বলেন, আমার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থানার কানাইনগর গ্রামে। আমরা পরিবারসহ মেয়েকে নিয়ে বোন শিল্পীর বাড়িতে ভাড়া থাকি। গত ২১ জুলাই আমরা বাসায় না থাকার সুযোগে কুয়েত প্রবাসী ভগ্নিপতি কবির হোসেন ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার মেয়েকে ধর্ষণ করেন। পরে মেয়ের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। পুলিশ জামসিং এলাকার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কবিরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, থানায় মামলা না করার জন্য কবিরের লোকজন আমাকে নিষেধ করেছিল। কিন্তু আমি তাদের কথা না শোনায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার পরিবারের ওপর হামলা চালায়। এ সময় সেলিম আমার পক্ষে কথা বলায় এবং মামলা দায়েরে তার ইন্ধন রয়েছে অভিযোগ তুলে কবিরের লোকজন তার উপর হামলা চালায়। পরে তার পেটে চাকু মেরে হত্যা করে।
সাভার মডেল থানার ওসি মহনিনুল কাদির জানান, শিশু ধর্ষণের অভিযোগে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হলে অভিযুক্ত ধর্ষক কবির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তির পাশাপাশি ধর্ষককে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে সেলিম নামে একজন মারা গেছেন । পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করতে চেষ্টা করছে।
জেড





