শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, “আমরা জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলছি, অথচ নিজেরাই বঞ্চিত ও অনিরাপদ। বছরের পর বছর প্রতিশ্রুতি শুনেছি, বাস্তবে পাইনি কিছুই। এখন খালি থালা হাতে রাস্তায় নামা ছাড়া বিকল্প নেই। এটি প্রতীকী প্রতিবাদ নয়, এটি আমাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার আর্তনাদ।”

আজিজী আরও বলেন, এই দাবিগুলো শুধু শিক্ষকদের ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মান ও ন্যায্যতা রক্ষার সঙ্গে যুক্ত। সরকার চাইলে আজই সংকটের সমাধান করতে পারে। শিক্ষক সমাজ করুণা নয়, প্রাপ্য সম্মান ও ন্যায্য দাবির বাস্তবায়ন চায়।

এর আগে গত রোববার (১২ অক্টোবর) প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচির সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এরপর সোমবার (১৩ অক্টোবর) থেকে সারাদেশে পাঠদান বন্ধ রেখে কর্মবিরতি শুরু হয়।

সরকার এর মধ্যে ৫ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা দিলেও শিক্ষকরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, প্রজ্ঞাপনে ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং কর্মচারীদের ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

বর্তমানে আন্দোলন শুধু রাজধানী নয়, সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকলেও শ্রেণিকক্ষে যাচ্ছেন না। তারা বিদ্যালয়ের মাঠ বা শিক্ষক লাউঞ্জে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় এখনো শতাধিক শিক্ষক অবস্থান করছেন। কেউ মাটিতে চট বিছিয়ে, কেউ ব্যানার মাথার নিচে দিয়ে রাত কাটাচ্ছেন। তাদের দাবি—ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এর আগে বুধবার (১৬ অক্টোবর) শাহবাগ মোড়ে তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষকরা। সেদিনই তারা ‘মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচিরও ঘোষণা দেন।

এনএইচ