বৃহস্পতিবার (২১ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া তিন দিনের এ বৈঠক চলবে শনিবার (২৩ মে) পর্যন্ত।

এবারের বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি পুনর্নবীকরণের বিষয়টি। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি এ চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। ফলে নতুন সমঝোতা বা নবায়নের আগে এটিই হতে যাচ্ছে যৌথ নদী কমিশনের শেষ বৈঠক।

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোহাম্মদ আনোয়ার কাদীর। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন, জেআরসির পরিচালক মো. আবু সৈয়দ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামসুজ্জামান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া উইংয়ের পরিচালক মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ।

এছাড়া প্রতিনিধি দলে রয়েছেন দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন এবং কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) মোহাম্মদ ওমর ফারুক আকন্দ।

ভারতের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দফতরের এক প্রধান প্রকৌশলীর।

বৈঠকের শুরুতেই বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল মুর্শিদাবাদ সফর করবে। সেখানে ফারাক্কা ব্যারাজ এলাকায় গঙ্গা নদীর পানিপ্রবাহ পরিমাপ করবেন তারা। পরে কলকাতায় ফিরে মূল বৈঠকে অংশ নেবেন প্রতিনিধিরা।

১৯৯৬ সালের চুক্তি অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে দুই দেশের মধ্যে গঙ্গার পানি নির্দিষ্ট অনুপাতে বণ্টনের বিধান রয়েছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে— গঙ্গায় পানির প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত পাবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং অবশিষ্ট অংশ পাবে বাংলাদেশ। প্রবাহ ৭০ থেকে ৭৫ হাজার কিউসেকের মধ্যে থাকলে বাংলাদেশ পাবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং বাকি পানি পাবে ভারত। আর প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে দুই দেশ সমানভাবে পানি ভাগ করে নেবে।

এস