লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছালে মুহূর্তেই সেটিকে ঘিরে ধরেন উপস্থিত জনতা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ‘আহমদ রফিক ফাউন্ডেশন’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, তার ইচ্ছানুযায়ী মরদেহ দান করা হবে বারডেম (ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালে। মেডিকেল শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য তিনি মরণোত্তর দেহ দান করে গেছেন।
গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১২ মিনিটে বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহমদ রফিক শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। দীর্ঘদিন তিনি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি জটিলতা, আলঝেইমার্স, পারকিনসন্সসহ নানা রোগে ভুগছিলেন।
১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। স্ত্রীকে হারানোর পর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের গাউসনগরে একাই বসবাস করতেন। নিঃসন্তান এই ভাষাসংগ্রামীর জীবনের একমাত্র সম্পদ ছিল তার বিপুল বইয়ের সংগ্রহ।
ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসবিদ, গবেষক ও লেখক হিসেবে তিনি শতাধিক গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনা করেছেন। একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা পেয়েছেন। দুই বাংলায় রবীন্দ্রচর্চায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কলকাতার টেগর রিসার্চ ইনস্টিটিউট তাকে ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত করে।
২০১৯ সালে তার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হতে শুরু করে, পরে প্রায় সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে পড়েন। ২০২১ সালে পড়ে গিয়ে পা ভাঙার পর থেকে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। জীবদ্দশায় সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ভাষা আন্দোলনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের বুদ্ধিজীবী মহল রাষ্ট্রীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছিলেন।
এনএইচ