দেশের প্রধান অর্থনৈতিক করিডরগুলোতে অবস্থিত এসব শিল্প সম্পদের সম্মিলিত আয়তন ১০ হাজার একরেরও বেশি। সড়ক যোগাযোগ, ইউটিলিটি সুবিধা এবং বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামো থাকায় এসব সম্পদে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।
উদ্যোগটি উপস্থাপনকালে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, ‘সরকার এমন একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে, যেখানে সরকার নিজে ব্যবসায়িক প্রতিযোগী না হয়ে বিনিয়োগের সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করবে।’
তিনি বলেন, ‘এ পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত শিল্পসম্পদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এবং টেকসই শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রস্তাবিত সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় বিনিয়োগকারীরা প্রস্তুত শিল্প স্থাপনা ও অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ পাবেন, ফলে তারা দ্রুত উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।’
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং অলাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সরকারের আর্থিক চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
এই বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে ইস্পাত, বস্ত্র, রাসায়নিক, চিনি, খাদ্য ও পাট খাতের বিনিয়োগের সুযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে অবস্থিত এই স্থানগুলোতে বিদ্যমান ইউটিলিটি সংযোগ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শিল্প অবকাঠামো থাকায় নতুন উৎপাদনমুখী শিল্প স্থাপনের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পসম্পদকে পুনরায় উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে ফিরিয়ে আনা এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি শিল্প ও অর্থনৈতিক রূপান্তরে বেসরকারি খাতই নেতৃত্ব দেবে।’
তিনি জানান, ‘আগ্রহী বিনিয়োগকারীরা সরকারি অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ৪৪টি বিনিয়োগ সুযোগের পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানতে পারবেন।’
এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পসম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
সূত্র : বাসস
এস