বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রপ্তানি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতের মাধ্যমে চলতি দশকেই দেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র ও প্রবেশদ্বারে পরিণত করতে চায় সরকার। পোশাকশিল্প দেশের প্রবৃদ্ধির প্রথম বড় গল্প তৈরি করলেও আগামী দিনে ইলেকট্রনিকস, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল ও সবুজ শিল্প নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায়, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং এমন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে, যা মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করবে।

নাগরিকদের সরাসরি সহায়তার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করেছে। পাশাপাশি হেলথ কার্ড চালুর কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ

ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে আইডিবির অর্থায়ন চুক্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এটি শুধু একটি আর্থিক চুক্তি নয়; বরং বাংলাদেশের প্রতি ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের আস্থার প্রতিফলন। এ প্রকল্পকে শুধু জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ হিসেবে নয়, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধিতে বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন তিনি।

অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব

বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং উন্নয়ন অর্থায়নের ব্যয় বৃদ্ধির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কোনো দেশ একা এসব জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে না। তাই বাংলাদেশ ও আইডিবির মধ্যে সহযোগিতাকে আরও উদ্ভাবনী, ফলাফলভিত্তিক এবং দেশের পরিবর্তিত উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বল্প ব্যয়ের অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান

উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোর জন্য স্বল্প ব্যয়ের অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি ইসলামিক কনসেশনাল ফান্ডের (আইসিএফ) পরিধি সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়ন অর্থায়নের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে আইডিবি ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও জোরদার করতে চায়।

আইডিবির চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ সুলায়মান আল জাসেরের নেতৃত্বের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও আইডিবির মধ্যে আস্থাভিত্তিক এবং ফলাফলমুখী সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

এস