শুক্রবার (১৮ জুলাই) বর্তমান সরকারের ৫ মাস পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন।

মাহদী আমিন বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন ও দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ১৫০ দিনেই এই সরকার জনগণের কাছে নিরপেক্ষ এবং আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, ‘নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন করছে সরকার। একইসঙ্গে যেভাবে জাতীয় সনদ স্বাক্ষর হয়েছে, তাও বাস্তবায়ন করছে বর্তমান সরকার। নির্বাচনি ইশতেহার ও জুলাই সনদ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করছে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় উন্নয়নের গালগল্প অনেক হয়েছে, কিন্তু কোথায় সেই উন্নয়ন? অনেক স্থানে অবনতি হয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবনতি ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যোবোধের অবক্ষয়। যতক্ষণ মানসিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের উন্নয়ন না হবে, ততক্ষণ কোনো ক্ষেত্রে উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

বর্তমান সরকারের ৫ মাস পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব

প্রেস সচিব বলেন, ‘কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে দেশের গুণগত পরিবর্তনে নিজেই কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী। যে দলেরই হোক, যে মতের হোক, মতাদর্শ যাই হোক, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন। মতের পার্থক্য ব্যালটে হতে পারে, কিন্তু দেশ গড়তে হলে সবাইকে একসঙ্গে চলতে হবে।’

প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি।

শুধু তাই নয়, দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে প্রবাস জীবন কাটাতে বাধ্য হওয়া দলটির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত ২৫ ডিসেম্বর ফিরে আসেন দেশে। ভাইস চেয়ারম্যান থেকে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান হন এবং দুটি আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

প্রথমবারের মতো ভোটে লড়ে দুটি আসনেই জয়ী হন তারেক রহমান। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, সেটিও প্রথমবার। গত ৫ মাস তার নেতৃত্বেই চলেছে বাংলাদেশ, চলবে আগামী ৫ বছর।

এস