গত বৃহস্পতিবার দেওয়া ওই ভিডিও বার্তায় তিনি সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তবে ঘটনার পর এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) না হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদ ও নিরাপত্তার দাবিতে পরদিন পিআইও কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে তালা ঝুলিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) গৌরীপুর পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম রিশাদের নেতৃত্বে কয়েকজন অনুসারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ে যান। এ সময় দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড-সংক্রান্ত তথ্য চাইলে অফিস সহকারীর সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তারা অফিস সহকারীকে গালাগাল করে এবং ক্ষুব্ধ হয়ে চলে যান।
অফিস সহকারীর অভিযোগ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দাপ্তরিক তথ্য দেওয়া সম্ভব নয় জানালে রাইসুল ইসলাম রিশাদ ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। পরে বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে যান।
এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার ইউএনও আফিয়া আমীন পাপ্পা তার কার্যালয়ে বসে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর কাছে একটি ভিডিও বার্তা দেন। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া কিংবা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বরদাশত করা হবে না। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ১৮৭ ও ১৮৮ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত পৌর ছাত্রদল নেতা রাইসুল ইসলাম রিশাদ বলেন, এলাকার একটি সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়ম এবং সরকারি সেলাই মেশিন বিতরণে অভিযোগের বিষয়ে জানতে তিনি পিআইও কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। এসব অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইউএনও আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, “ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও কেউ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা সরকারি কাজে বাধা দিলে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে ঘটনার পরও কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি না হওয়ায় প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এস