দুইটি শিকে ওপর দিয়ে শত চাকার ট্রেন চলছে। এ শিককে ধরে রাখছে নিরাপত্তা ক্লিপ। আর চোরেরা রেলপথটির হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এ ক্লিপগুলো চুরি করে খুলে নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে ট্রেন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। কর্তৃপক্ষের এদিকে কেমন নজর রয়েছে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা যায়, হবিগঞ্জ জেলার ৮টি উপজেলার মধ্যে মাধবপুর, হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উজেলার ওপর দিয়ে ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথটি চলে গেছে। এ জেলার প্রায় ১০৯ কিলোমিটার রেলপথের বিভিন্ন স্থান থেকে রেল শিকের নিরাপত্তা ক্লিপগুলো খুলে নিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ চোরেরা। এতে করে দিন দিন রেলপথ হয়ে পড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ। তারমধ্যেও চলছে ট্রেনগুলো।
এ অবস্থা চলায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। চোরেরা এসব লোহার ক্লিপ চুরি করে নিয়ে এসে ভাঙারি দোকানে বিক্রি করছে। বিনিময়ে চোররা কেজিপ্রতি ২০/২৫ টাকা পাচ্ছে।
এদিকে সরকারের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। চুরিরোধে দেখভালকারীদের নজর নেই বললেই চলে। রেলপথের নিরাপত্তা না থাকায় নির্বিঘ্নে চোরেরা এসব নিরাপত্তা ক্লিপ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। আর যদিও মাঝে-মধ্যে আইন প্রয়োগকারীদের হাতে চোররা ধরা পড়লেও নানাভাবে তারা পার পেয়ে যাচ্ছে।
শুধু নিরাপত্তা ক্লিপ নয় চুরি হচ্ছে এ পথের আধুনিক সিগন্যালিংয়ের যন্ত্রপাতিও। রেলপথের নিরাপত্তার জন্য রয়েছে জিআরপি পুলিশ ও নিরাপত্তা হাবিলদার বাহিনী। তারা কোথায় দয়িত্ব পালন করেন এনিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে এ পথের দায়িত্বরত শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের ঊর্ধ্বতন উপ-প্রকৌশলী (পথ) কর্মকর্তা সতিষ চন্দ্র দাশ জানান, নিরাপত্তা ক্লিপ শিকগুলোকে ধরে রাখে। এগুলো চুরিরোধে আমরা সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ চুরি রোধ করতে আমাদের রেল পুলিশসহ সবার দায়িত্ব রয়েছে। কারণ এগুলো দেশের সম্পদ।
রেল পুলিশ জানায়, চুরি রোধে আমরা সব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
স্টেশন মাস্টার জানান, এসব চুরি হওয়ায় ট্রেন ঝুঁকি নিয়ে চলছে। এর চুরি রোধ না করলে যেকোনো সময় ট্রেন দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে পারে।
জেআই





