সংস্থাটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিকে আরও সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও পরিকল্পিত করাই এই অর্থায়নের মূল লক্ষ্য।

সোমবার (১৮ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, এটি ‘এনার্জি সেক্টর সিকিউরিটি এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর অংশ, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। এই প্রকল্পের মূল অর্থায়ন ২০২৫ সালের ১৮ জুন অনুমোদন করা হয় এবং এটি ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে এলএনজির দাম বেড়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সরকারি ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশের জন্য আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামা সরাসরি বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে প্রভাব ফেলছে।

নতুন এই অর্থায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলাকে সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে তারা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি আমদানি করতে পারে। এতে স্পট মার্কেটের উচ্চ দামের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল থাকবে।

এছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি ও স্বল্পমেয়াদি ক্রেডিট লাইন সুবিধার মাধ্যমে এলএনজি আমদানির পেমেন্ট ব্যবস্থাও আরও নিরাপদ ও পূর্বানুমানযোগ্য হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

সংস্থাটি বলছে, এই সহায়তা শুধু জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করবে না, বরং বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রেখে শিল্প খাত ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতেও সহায়তা করবে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেজমে বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সময়ে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সব মিলিয়ে, এই অর্থায়ন বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এস