সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি হাসপাতালে আধুনিক নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে শয্যা ও সেবা সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হবে। আইসিইউ ইউনিটের জন্যও পর্যাপ্ত জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।

হাসপাতালগুলোর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র ক্রয়ের দরপত্র কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ছয় মাসের মধ্যে হাসপাতালগুলোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন করা হবে।

পূর্ণাঙ্গভাবে হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ৪৭৫ জন জনবল প্রয়োজন হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ইতোমধ্যে খুলনা, বরিশাল ও কুমিল্লার হাসপাতাল ভবন পরিদর্শন করেছেন। বরিশাল শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় তিনি আগামী আগস্টের শুরুতেই হাসপাতালটির কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দেন।

মন্ত্রী জানান, নিউনেটাল ভেন্টিলেটর, সিটি স্ক্যান, এক্স-রে, পোর্টেবল এক্স-রে, মাল্টি প্যারামিটার বা কার্ডিয়াক মনিটর এবং ফটোথেরাপি মেশিনসহ ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই সরবরাহ করা হবে। তার মতে, আগামী ১ আগস্ট হাসপাতালটির উদ্বোধন করা হবে।

এর আগে গত ১০ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ছয় বিভাগে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকা শিশু হাসপাতালগুলো দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন।

একইসঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাসপাতালগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে ২ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই হাসপাতালগুলো চালুর কার্যক্রম গতি পায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের পাঁচ বিভাগে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু হবে। এসব হাসপাতালে আধুনিক আইসিইউ সুবিধা ও কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকবে।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় ফার্নিচার ও চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সংগ্রহের টেন্ডার কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন জনবল প্রয়োজন হবে এবং এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালগুলোর সুবিধা সম্পর্কে তিনি জানান, প্রতিটি হাসপাতালে আইসিইউ থাকবে, কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে এবং ভবিষ্যতে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগও রাখা হবে। পাশাপাশি বৃহৎ পরিসরে আইসিইউ সম্প্রসারণের জন্যও নির্ধারিত জায়গা সংরক্ষিত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারও বরিশালের ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, হাসপাতালটি আগস্টে চালু হবে এবং প্রথম ধাপে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম শুরু করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল চালুর কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।

গত ২০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হবে।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, গণপূর্ত বিভাগ ও সিভিল সার্জনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালটি পরিদর্শন করা হয়েছে। হাসপাতালসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে এবং পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে গত ২৫ মে কুমিল্লা সদর দক্ষিণের বেলতলী এলাকায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানেও আগামী ছয় মাসের মধ্যে হাসপাতালটি চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়।

দীর্ঘ ছয় বছর ধরে অব্যবহৃত থাকার পর রংপুরের বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালও চালুর পথে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর দ্রুত হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালটির অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন।

তিনি বলেন, শুধু এই পাঁচটি শিশু হাসপাতাল নয়, স্বাস্থ্য খাতে আরো অনেক স্থাপনা রয়েছে যেগুলো নির্মাণ শেষ হলেও চালু হয়নি। বিষয়টি নজরে আসার পর সেগুলোও কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কুমিল্লা শিশু হাসপাতাল চালুর প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকের পর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান হাসপাতালটির জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন।

রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগও নিয়েছে সরকার। আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস হাসপাতালটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব জানান, প্রথম ধাপে রাজশাহী শিশু হাসপাতালে বহির্বিভাগ (আউটডোর) সেবা চালু করা হবে। পরবর্তী অর্থবছরে ধাপে ধাপে অন্যান্য সেবাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এনএইচ