জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার হাটখোলা সীমান্তে বিএসএফের বিরুদ্ধে বাংলাদেশী প্রান্তিক চাষীদের আবাদী জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জমি হারিয়ে গরিব চাষীরা অসহায় হয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীরা প্রধানমন্ত্রী ও ভূমিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানালেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী চাষীরা জানান, জেলার পাঁচবিবি উপজেলার ভারতীয় সীমান্তের উচনা সোনাতলা মৌজার ২৮০ মূল সীমানা পিলারের ৯-১০ সাব-পিলার থেকে ১২ নম্বর সাব-পিলার পর্যন্ত পিলার টু পিলার সোজা করতে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসফ) জোরপূর্বক বাংলাদেশী ১২ প্রান্তিক চাষীর প্রায় তিন বিঘা জমি দখল করে ভারতীয় সীমানার মধ্যে নিয়েছে। এতে বিএসএফ আন্তর্জাতিক সীমা লঙ্ঘন করে জমিতে লাগানো ধান নষ্ট করে পিলার টু পিলার খুঁটি পুঁতে নিজেদের বলে দাবি করছে।
বাংলাদেশের মৌজা নকশায় দেখা যায়, ২৮০ নম্বর মূল সীমানা পিলারের ১০ ও ১১ নম্বর সাব-পিলার থেকে ১২ ও ১৩ নম্বর সাব-পিলারের মধ্যবর্তী ৫৭ লিংকে একটি ভাঁজ রয়েছে। ১০ নম্বর সাব-পিলার থেকে ১২ নম্বর সাব-পিলার পর্যন্ত ওই ভাঁজে উচনা সোনাতলা গ্রামের হাফিজ উদ্দীন মন্ডল, নজিম উদ্দীন, আব্দুল লতিফ, সফিজ উদ্দীন, আব্দুল গনি, আব্দুস সোবহান ও আব্দুল মাজেদের ভিন্ন ভিন্ন দাগে প্রায় তিন বিঘা জমি আছে যার দাগ নম্বর- ৩৩৭, ৩৩৮, ৬৩৫, ৬৩৬, ৭ ও ৮। এখন পিলার টু পিলার সোজা করলে ওই দাগের বড় একটি অংশ ভারতের মধ্যে পড়ে। এতে গরিব প্রান্তিক চাষীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিএসএফ বর্তমানে ওই জমিগুলো চাষাবাদ করতে বাধা দিচ্ছে। সরেজমিন গিয়ে চাষীদের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। দেখা গেছে, জমিগুলো এখন পতিত পড়ে আছে।
তারা আরও জানান, ধানের জমি নষ্ট করে বিএসএফ যখন জমি দখল করছিল তখন তারা হাটখোলা বিওপিতে বার বার ধর্ণা দেন। কিন্তু বিজিবি কোনো প্রতিবাদ বা ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ২১ ফেব্রুয়ারি ক্ষতিগ্রস্ত চাষীরা প্রধানমন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবেদন করলেও কোনো লাভ হয়নি।
চাষীদের অভিযোগ, ৫ মার্চ পাঁচবিবি উপজেলার কয়া সীমান্তে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের পক্ষ থেকে বিষয়টি উপস্থাপনের জন্য বলা হয়। কিন্তু জমি উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বিকার ভূমিকা পালন করে।
উচনা সোনাতলা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত চাষী হাফিজ উদ্দীন মণ্ডল জানান, পাক-ভারত বিভক্ত হওয়ার আগ থেকে তারা জমিগুলো বংশানুক্রমে ভোগ দখল করে আসছেন। তার জমির পাশে ভারতীয় জামালপুরের যোধা মাহাতর জমি আছে। তিনিও কোনো দিন ওই জমির মালিকানা দাবি করেনি।
ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি থানার জামালপুর গ্রামের নির্মল (৪০) জানান, তারা (উভয় দেশের চাষীরা) তাদের জমি দীর্ঘদিন ধরে চাষ করে আসছেন। কখনো কোনো বিরোধ হয়নি।
বিএসএফের সিধাই ক্যাম্প থেকে জানানো হয়েছে, স্ট্রিপ ম্যাপ আনুযায়ী পিলার টু পিলার সোজা করা হয়েছে। এতে কিছু জমি ভারতীয় সীমানার ভেতরে পড়েছে।
পাঁচবিবি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুদ্দীন আল ফারুক প্রায় তিন বিঘা জমি ভারতের অভ্যন্তরে চলে যাওয়ার বিষয়টির নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জমি দখলের বিষয়টি ফাইনাল নয়। জেলা প্রশাসন ও বিজিবির সহায়তায় অতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
জয়পুরহাট ৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুর রাজ্জাক তরফদার জানান, জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ সার্ভে পরিচালনার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের এক ইঞ্চি জমি ভারতের মধ্যে গেলে তা উদ্ধার করা হবে।
জেআই





