দেশের সর্ববৃহৎ তামাক কোম্পানি চাকরি দেয়ার নাম করে শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা সুকৌশলে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করছে চাকরির প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে।
এসব তামাক কোম্পানি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হেল্পডেস্ক ও বুথ খুলে শিক্ষার্থীদের চাকরি সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করছে।
তামাক বিরোধী কর্মীরা তামাক কোম্পানির এই চাকরি দেয়ার উদ্যোগকে প্রচারণার নতুন কৌশল হিসেবে দেখছে।
অতি সম্প্রতি কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিপ মরিস ইন্টারন্যাশনালকে এ ধরনের অস্থায়ী বুথ ও হেল্পডেস্ক স্থাপন করতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে এই তামাক কোম্পানি অত্যন্ত সৃজনশীল ও মনলোভা স্লোগানের আশ্রয় নিয়েছিল। ফিলিপ মরিস ইন্টারন্যাশনাল এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের মার্লবোরো সিগারেটের আদলে এসব হেল্পডেস্ক সাজাতে দেখা যায়।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ কে আজাদ বলেন, সরকার শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন কিছু আইন অন্তর্ভুক্ত করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ পাস করেছে।
এই আইন পাসের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আরো বেশি ক্ষমতা লাভ করেছে। যার ফলে আমরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর্যবেক্ষণ করতে পারছি।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তামাক কোম্পানির চাকরি দেয়ার নামে এ ধরনের অভিযান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সুন্দর জীবনের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ ধরনের প্রচারণার অনুমতি দেয়া উচিত নয়।
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর ছাত্র বিষয়ক পরিচালক মঞ্জুর হোসেন খান বলেন, এই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শিক্ষার্থীদের চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন করার জন্য ফিলিপ মরিস ইন্টারন্যাশনাল হেল্পডেস্ক স্থাপন করেছিল। তিনি আরো বলেন, এ ধরনের উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীরা চাকরি সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পায়।
তামাক কোম্পানি এ ধরনের প্রচারণার ফলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোন ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, উক্ত তামাক কোম্পানিকে শুধু চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে বলা হয়েছে।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের কর্মকর্তা ড. মাহফুজুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ধরনের হেল্পডেস্ক কোন বিশেষ সিগারেটের প্যাকেটের আদলে সাজিয়ে স্থাপন করা তামাক বিরোধী আইনের স্পষ্ট লংঘন।
তিনি বলেন, এ ধরনের প্রচারাভিযান তাদের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের একটি নতুন কৌশলমাত্র।
ড. মাহফুজ বলেন, তামাক কোম্পানির এ ধরনের অপকৌশল রোধে জাতীয় তামাক নিযন্ত্রণ সেলকে মেজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে আরো শক্তিশালী করা উচিত।
তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী কোন ব্যক্তি যদি তামাক পণ্যেরে প্রচারণা বা বিজ্ঞাপণ করে থাকে, সেক্ষেত্রে তার তিন মাসের সাজা হতে পারে অথবা তার সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা করা হতে পারে। আর যদি এ ধরনের অপরাধ সে পুনরায় করে থাকে তাহলে তার শাস্তি দ্বিগুণ হয়ে যাবে। সূত্র: বাসস
[b]ঢাকা, ২৫ মার্চ (টাইমনিউজবিডি) // টিআই[/b]