মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য জানান।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে রণধীর জয়সওয়াল জানান, বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে প্রথমে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্যও আমন্ত্রণ জানানো হয়। অর্থাৎ দুটি আমন্ত্রণ আলাদা প্রেক্ষাপটে এবং পৃথকভাবে দেওয়া হয়েছিল।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য কিংবা অংশীদার কোনো দেশ নয়। তবে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশকে ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন আমন্ত্রিত দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
ভারতের এই বক্তব্য এসেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর। গত ১০ সেপ্টেম্বর তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বরং বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশকে ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর পরিপ্রেক্ষিতেই মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হলো। ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনের আমন্ত্রণটি বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে দেওয়া হলেও তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে সেই সফর এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের যোগাযোগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বাংলাদেশ সফরে এসে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। এ সময় তার স্ত্রী ও সন্তানসহ ভারত সফরের আমন্ত্রণসংবলিত একটি চিঠিও তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেওয়া আমন্ত্রণের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। বিশেষ করে ব্রিকসসম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ কোন পরিচয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লিকূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
এমএম





