[b]ঢাকা: [/b]চলতি অর্থবছরের শেষার্ধের (জানুয়ারি-জুন ২০১৪) জন্য কেমন মুদ্রানীতি থাকছে, তা ৩০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই দিন সকালে মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। মুদ্রানীতি নিয়ে আলোচনার জন্য গত কয়েক দিন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের সঙ্গে বিশেষ করে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করেছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ছ'মাসের জন্য গঠিত এ মুদ্রানীতিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ অর্থনীতির ধারাকে শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ খাতকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও মুদ্রানীতির সঙ্গে জড়িত সংশিষ্টরা মন্তব্য করেছেন।
নতুন মুদ্রানীতিতে থাকছে পণ্য ও সেবার মূল্য নিয়ন্ত্রণ। উচ্চহারে প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য। তবে এক্ষেত্রে বড় ধরনের কোন পরিবর্তন আসছে না বলে জানা গেছে।
জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত (ছ'মাসের জন্য) মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই গবেষণা সংস্থা, ব্যবসায়িক সংগঠন এফবিসিসিআই, ডিসিসিআই, এমসিসিআইসহ সংশিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব সংগঠনের মতামত পাওয়ার পরেই নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, আগামী ৬ মাসের জন্য গঠিত নতুন মুদ্রানীতিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ভারসাম্য রক্ষায় প্রচেষ্টা নেয়া হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্যের সাম্প্রতিক উর্ধগতি মাথায় রেখে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোর নানা কৌশল হাতে নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, আগামীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়বে। তখন বিনিয়োগ ও প্রকৃত উৎপাদনের সঙ্গে যোগানও বাড়বে। যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রাখা সম্ভব হবে।
চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। দ্বিতীয়ার্ধেও (জানুয়ারি-জুন) ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ থাকবে বলে জানা গেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত অক্টোবর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ হয়েছে মাত্র ১১ দশমিক ৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী টাইম নিউজকে বলেন, ঋণ বিতরণ যাই হোক দ্বিতীয়ার্ধেও আমরা লক্ষ্যমাত্রা ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশই রাখব। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন আগামীতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এলে এ খাতে ঋণ বিতরণ অনেক বেড়ে যাবে। আর অর্থনীতির সার্বিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধি জরুরি বলেও জনান তিনি।
উল্লেখ, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে গড় মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক শূন্য শতাংশে (পুরনো ভিত্তি বছর ধরে) নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে প্রণীত হয়। এর অন্যতম কৌশল ছিল পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন। এ মুদ্রানীতির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল সঞ্চিত অর্থের প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ৫ শতাংশে ধরে রাখা এবং ডিসেম্বর ২০১৩ এর মধ্যে ব্যাপকমুদ্রার প্রবৃদ্ধি ১৭ দশমিক ২ শতাংশে নামিয়ে আনা। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ডিসেম্বর ২০১৩ এর জন্য ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং জুন ২০১৪ এর জন্য ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের বাজেটে বর্ণিত ২৬ হাজার টাকায় সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]
শ্রেণীহীন
আসছে নতুন মুদ্রানীতি, ৩০ জানুয়ারি ঘোষণা
ঢাকা: চলতি অর্থবছরের শেষার্ধের (জানুয়ারি-জুন ২০১৪) জন্য কেমন মুদ্রানীতি থাকছে, তা ৩০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই দিন সকালে মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।





