ঢাকা: অবশেষে বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনের সামনে থেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে টানা ১৩ দিন পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে ওই বাসার সামনের চিত্র।
বুধবার সকাল থেকেই গুলশান ২ নম্বরের ৭৯ নম্বর রোডের ১ নম্বর বাড়ি ‘ফিরোজা ভবনের’ সামনে থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা চলে যান। একইসঙ্গে বাসার সামনের সড়কে ব্যারিকেড হিসেবে রাখা গাড়িও সরিয়ে নেওয়া হয়। বাসার সামনে এখন স্বাভাবিক নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীরা রয়েছেন।
তবে এবিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কোনো বক্তব্য না পাওয়া গেলেও সরকারি নিরাপত্তা সংস্থার একজন কর্মকর্তা যিনি বিগত কয়েক দিন ধরে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নাম প্রকাশে অপারগতা জানিয়ে টাইম নিউজকে বলেন, উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই খালেদা জিয়ার বাসায় অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এখন সেই নির্দেশেই বাড়তি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তবে কারণ হিসেবে তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বিদেশি কূটনৈতিকরা খালেদা জিয়ার বাসভবনে দেখা করতে এসে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাড়াবাড়ি দেখে সরকারের কাছে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন । এসব কারণেই এই নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে স্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি করা হয়েছে।
তবে এর আগে বিরোধী দলীয় নেতা গত সোমবার অবরুদ্ধ অবস্থা থেকেই দ্বিতীয় বারের মত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘আমাকে গৃহবন্দী কিংবা অবরুদ্ধ করে রেখে বর্তমান সংকটের সুরাহা হবে না।’
এদিকে ৫ জানুয়ারি রোববার বিতর্কিত দশম নির্বাচনের দিন থেকেই বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবনের সামনে বালুর ট্রাক ও জলকামান সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে সে সময়ও বাসার সামনে পুলিশি পাহারা আগের মতই বহাল রাখা হয় এবং বাসার সামনে রাস্তার পশ্চিম দিকে দুইস্তরের পুলিশ দায়িত্ব পালন করতে থাকে।
প্রসঙ্গত, মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচি ঘোষণার পর ২৫ ডিসেম্বর রাত থেকেই সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে নিজ বাসভবনে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় ওই বাসা এবং গুলশানে তাঁর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। এছাড়া বাসার সামনের সড়কে জলকামান মোতায়েন এবং বাঁশকল ছাড়াও একাধিক বালু বোঝাই ট্রাক আড়াআড়ি রেখে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়।
এতদিন বিদেশি কূটনীতিক ছাড়া কাউকে খালেদা জিয়ার বাসায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। দলের কোনো নেতা-কর্মী, এমনকি সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের পর্যন্ত তার বাসভবনে প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। গণমাধ্যম কর্মীদেরও তার বাসার সামনে যেতে দেয়া হয়নি। প্রধান সড়ক থেকে সংবাদকর্মীরা খবর সংগ্রহ করেছেন। আর অবরুদ্ধ অবস্থা থেকেই ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় বারের মত গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও ১৮ দলীয় জোটের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
তবে অবরুদ্ধ অবস্থায় গতকাল রাতে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডিয়ান হাইকমিশন হিদার ক্রডেন, এর আগে অবরুদ্ধ অবস্থায় বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত, ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনাও বিরোধী দলীয় নেতার সাথে তার বাসভবনে গিয়ে দেখা করেছেন।
এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়া এবং বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, তাকে ‘অবরুদ্ধ’ এবং ‘গৃহবন্দি’ করা হয়েছে। আর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় বেগম জিয়ার নিরাপত্তা জোরদারের কথা। তবে এতো নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যেও গত শনিবার বাসার পাশের রাস্তায় চারটি ককটল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
বিরোধী দলীয় নেতার অবরুদ্ধ অবস্থার বিষয়ে বিএনপির সংসদীয় কমিটির একটি প্রতিনিধি দল বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের নেতৃত্বে গত ৩ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর আগে প্রতিনিধি দল স্পিকারকে স্মারকলিপি দেয়।
শ্রেণীহীন
খালেদার বাসার সামনে রাস্তায় চলাচলে বাধা নেই
অবশেষে বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনের সামনে থেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে টানা ১৩ দিন পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে ওই বাসার সামনের চিত্র। বুধবার সকাল থেকেই গুলশান ২ নম্বরের ৭৯ নম্বর রোডের ১ নম্বর বাড়ি ‘ফিরোজা ভবনের’





