সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচনেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কিন্তু নেতাকর্মীদের বিদ্রোহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না দলটি। প্রতিটি উপজেলায় একক চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় নোতারা ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে উপজেলায় সফরে যাবেন।
অধিকাংশ উপজেলায় দুই পদেই একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতার জন্য প্রচারণায় নেমেছেন। এ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন। অথচ আওয়ামী লীগকে মোকাবেলায় তাদের মূল প্রতিপক্ষ বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মী স্থানীয়ভাবে একাট্টা।
তারা আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে একক প্রার্থী দেয়ার সর্বাÍক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
এ অবস্থায় চরম বিপাকে পড়েছেন আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড। চলছে প্রতিদিনই দফায় দফায় কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠক। সাত বিভাগে উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত আওয়ামী লীগের কমিটিও বিদ্রোহ নিরসন পারছেন না।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একক প্রার্থী নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন জেলা ও উপজেলা নেতাদের কাছে। তিনি সমঝোতার ভিত্তিতে প্রার্থী মনোনীত করতে বলেছেন। এতে ব্যর্থ হলে ভোটাভুটিতে যেতে পরামর্শ দেন।
সংসদীয় দলের বৈঠকেও তিনি এ নির্দেশনা দেন। সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও অনুরূপ চিঠি দিয়েছেন জেলা-উপজেলা নেতাদের। তাদের নির্দেশনার পর সাত বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকরা বিষয়টি সমন্বয় করছেন।
কেন্দ্রের নির্দেশনার পর বিভিন্ন উপজেলায় একক প্রার্থী মনোনয়নের জন্য উপজেলা কমিটির সভা আহ্বান করা হয়। ওই সব সভায় গোপন ভোটাভুটি অথবা সমঝোতার ভিত্তিতে উপজেলা পরিষদে দল সমর্থিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনীত করা হয়। কিন্তু এরপরও অনেক স্থানে বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আবার দ্বন্দ্বের কারণে কোথাও কোথাও ভোটাভুটি বন্ধ হয়ে গেছে।
একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে এ পর্যন্ত আরও বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ক্ষমতাসীন দলটির পক্ষ থেকে। এসব বিষয় নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক হয় ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে। বৈঠকগুলোতে উপজেলা নির্বাচন, তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থা, সাংগঠনিক কর্মসূচি নির্ধারণ প্রভৃতি বিষয়ে বৈঠকগুলোতে আলোচনা হয়। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, তারা তাদের আলোচনায় মূলত উপজেলা নির্বাচনের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন। কোন কোন উপজেলায় একাধিক প্রার্থী রয়েছে তার খোঁজখবর নেয়া হয় এ বৈঠক থেকে। সে অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জেলা ও উপজেলার নেতা এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে সমঝোতার চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তারা (সাংগঠনিক সম্পাদক) সেটা মনিটরিং করছেন। তিনি জানান, সভানেত্রী জেলা-উপজেলার নেতাদের কাছে পাঠানো চিঠিতে সমঝোতার ভিত্তিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করার জন্য বলেছেন। এতে ব্যর্থ হলে জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে ভোটাভুটি করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
আওয়ামী লীগের এ সাংগঠনিক সম্পাদক আরও জানান, কোথাও কোনো সমস্যা হলে তারা সরাসরি হস্তক্ষেপ করছেন। খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যদি কেউ অনিয়ম করে থাকে এবং সেটা যদি তারা জানতে পারেন তাহলে অনিয়ম যাতে না হয় সে ব্যবস্থা করবেন। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি তাদের সাংগঠনিক সফর শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি প্র্রথম দফা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ আজ সোমবার। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে বিদ্রোহ নিরসন করে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে হলে তা আজকের মধ্যেই করতে হবে।
[b]ঢাকা, ৩ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//ইএইচ[/b]
শ্রেণীহীন
উপজেলা নির্বাচনেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা চায় আ.লীগ
সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচনেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কিন্তু নেতাকর্মীদের বিদ্রোহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না দলটি।





