[b]ঢাকা: [/b]নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী রাজনৈতিক সহিংসতার আগুন জ্বলছে দেশজুড়ে। হরতাল অবরোধে অবরুদ্ধ সারা দেশ। মুখ থুবড়ে পড়েছে পরিবহন ব্যবস্থা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি-রপ্তানি বন্ধ। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। হরতাল-অবরোধের অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম যেমন বাড়ছে, তেমনি পরিবহন সঙ্কট ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পণ্য সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে সমানতালে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে পাওয়া গেছে এমন তথ্য।
অব্যাহত রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ছে লাগামহীনভাবে। চাল, পিয়াজ, ভোজ্যতেল, ডাল, সবজি বাদ যাচ্ছে না কিছুই।
গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে নিত্যপণ্যের বাজারে শীতকালীন সব ধরনের সবজি কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। সরবরাহ কম থাকায় সবজির দাম কিছুটা বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা
গত কয়েক মাস ধরেই চালের দাম বাড়ছে। এখন তা অসহনীয় পর্যায়ে। এমনকি ‘গরিবের চাল’ খ্যাত মোটা চালও প্রতি কেজি ৪০ টাকার নিচে মিলছে না।
শুক্রবার মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটে ভাল মানের নাজিরশাইল চাল খুচরা বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৬৫ টাকা, মিনিকেট ৪৮-৫০, পারিজা ৪২-৪৪, বিআর-২৮, ৪৬, বিআর-২৯, ৪২, স্বর্ণা মোটা চাল ৪০ টাকা।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত কয়েক মাসে ভাল মানের নাজিরশাইল ও মিনিকেট চালের দাম বেড়েছে শতকরা ১২.২০ টাকা। এছাড়া, মোটা চালের দাম বেড়েছে ১৫, ২৫ টাকা। কাওরানবাজারের বগুড়া রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মো. খোরশেদ আলম ও বরিশাল রাইস এজেন্সির মো. ফোরকান মিয়া জানান, চলতি সময়ে চালের দাম আরেক দফা বেড়েছে। পাইকারি দরে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চালের দাম বেড়েছে ক্ষেত্রবিশেষে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। প্রতি কেজি চালে কমপক্ষে ২ থেকে ৪ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, শিম গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ২০ টাকা করে, চলতি সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা। ৪০ টাকার কাঁচামরিচ ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন প্রতি কেজি ৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ টাকা। টমেটো ৪০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা। ৩০ টাকার শসা ৪০ টাকা, ১০ টাকার মুলা ১৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি। নতুন আলু ২০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, করলা ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রতি পিস মাঝারি আকারের ফুলকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এ সপ্তাহে। লালশাক, কলমিশাক, লাউশাক, পালংশাক, মুলাশাক, পুঁইশাক, ডাটাশাকসহ । অন্যান্য শাকের আঁটি পাঁচ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
চলতি সপ্তাহে বয়লার মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা দরে। আর দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা।
চলতি সপ্তাহে ভারতীয় পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা। আর দেশি পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা করে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০ টাকা।
শুক্রবার চালের বাজারে প্রতি কেজি নাজিরশাইল ৫৮ থেকে ৬০ টাকা, মিনিকেট ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, লতা আটাশ ৩৮ থেকে ৪০ টাকা, মোটা চাল ৪২ টাকা, জিরা নাজির ৫৫ টাকা, আটাশ ৪২ টাকা, পাইজাম ৪০ টাকা, চিনিগুঁড়া ১১০ টাকা, পারিজা ৩৮ টাকা, বিআর-২৮ ৪০ থেকে ৪৩ টাকা, বিআর-২৯ ৪২ টাকা, হাসকি ৪০ টাকা, স্বর্ণা ৩৬ টাকা থেকে ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া চায়না বড় রসুন ৮০ টাকা, দেশি রসুন ৭০ টাকা, চায়না আদা ১২০ টাকা, ইন্দোনেশিয়ান আদা ১৩০ টাকা, শুকনা মরিচ ১৮০ টাকা, হলুদ ১২০ টাকা, হলুদের গুঁড়া ১৮০ টাকা, মরিচের গুঁড়া ২২০ টাকা, ধনিয়া ৮৫ টাকা, আটা (প্যাকেট) ৩৭ টাকা, ময়দা (প্যাকেট) ৪৫ টাকা, দেশি মশুর ডাল ১২০ টাকা, ভারতীয় মশুর ডাল ৮০ টাকা, খেসারি ডাল ৪৫ টাকা, খোলা চিনি ৪৬ টাকা, প্যাকেট চিনি ৫০ টাকা ও প্রতি লিটার সয়াবিন খোলা ১১০ টাকা ও বোতলজাত সয়াবিন ১২২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের বাজারে দেখা গেছে গরুর মাংস ২৮০ টাকা ও খাসি ৪৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
হরতাল অবরোধে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তেই থাকে। আবার এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বড় বড় ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে দাম বাড়াতে সহায়তা করে। যে কারণে জিনিসপত্রের দামের তারতম্য থাকে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পচনশীল সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।
বিক্রেতারা বলছেন- সবজির উৎপাদন ও আমদানি আছে যথেষ্ট। সমস্যা সরবরাহে। লাগাতার অবরোধ- হরতালে পরিবহন ব্যবস্থা প্রায় অচল। যখন তখন পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে পণ্য পরিবহনকারী ট্রাক, পিকআপ। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা দ্বিগুণ তিনগুণ ভাড়া হাঁকছেন। বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই কেউ কেউ সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন। তাছাড়া, সবজি পচে যাওয়ার ভয়ে বেশিরভাগ কৃষক জমি থেকে সবজি তুলছেন না। সঙ্গত কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ অপর্যাপ্ত।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]
শ্রেণীহীন
রাজনৈতিক সঙ্কটে অস্থিতিশীল নিত্যপণ্যের বাজার
ঢাকা: নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী রাজনৈতিক সহিংসতার আগুন জ্বলছে দেশজুড়ে। হরতাল অবরোধে অবরুদ্ধ সারা দেশ। মুখ থুবড়ে পড়েছে পরিবহন ব্যবস্থা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি-রপ্তানি বন্ধ। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে।





