[b]ঢাকা: [/b]দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভারত ও ভুটান থেকে চারজন পর্যবেক্ষক ছাড়া বিদেশ থেকে অন্য কোন পর্যবেক্ষক আসছেন না। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই প্রথম সবচেয়ে কম আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের উপস্থিতিতে জাতীয় কোট নির্বাচন।

এছাড়া দেশীয় মাত্র ২২টি পর্যবেক্ষক সংস্থা নির্বাচনে পর্যবেক্ষণ করবে যদিও দেশে নিবন্ধিত পর্যবেক্ষক সংস্থার রয়েছে ১২০টি।

কমিশন থেকে খরচের বড় একটি অংশ দেয়ার পরও সাড়া মেলেনি দেশী-বিদেশী সংস্থাগুলোর। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), কমনওয়েলথ, জাতিসংঘ, আমেরিকা, রাশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ ও সংস্থার সাফ কথা নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ না করলে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না।

এদিকে, আন্তর্জাতিক বড় বড় পর্যবেক্ষকদের দেখানো পথেই হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সার্কভুক্ত দেশগুলো। আর সেকারণেই শুধুমাত্র ভারত ও ভুটান থেকে চারজন পর্যবেক্ষক ছাড়া কেউই ঢাকায় আসছেন না আসন্ন ১০ম সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নির্বাচন কমিশনের সংগঠন ফোরাম অব ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডিস অব সাউথ এশিয়ার (ফেমবোজা) সদস্যদের মধ্যে ভারতের দু'জন প্রতিনিধি ঢাকায় এসেছেন। তারা হলেন ত্রিপুরার চিফ ইলেকটোরাল অফিসার আশুতোষ জিন্দাল ও ইলেকশন কমিশন অব ইন্ডিয়ার একজন ডিরেক্টর বি বি গার্গ।

শুক্রবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে এ দু'জন পর্যবেক্ষককে প্রয়োজনীয় প্রটোকল ও প্রটেকশন দেয়ার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চার বিভাগকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভুটানের দু'জন নির্বাচন কর্মকর্তা ঢাকায় পৌঁছেছেন। তারা হচ্ছেন ভুটান নির্বাচন কমিশনের ভোটার রেজিস্ট্রেশন এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিভাগের পরিচালক সোনামত বগাইয়াল এবং পাবলিক ইলেকশন ফান্ড ডিভিশনের ম্যানেজার তাশি দর্জি।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পর্যবেক্ষক এসেছিল ৫৮৫ জন। এদের মধ্যে ইউই ১৪৬ জন, কমনওয়েলথের ১৭ জন, আমেরিকাভিত্তিক সংস্থা এনডিআই ও আইআরআই এর ১৫৮ জন, ইউএসএইড থেকে ৬৪ জনকে, ইউএনডিপি থেকে ১২ জন, 'এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন' ৭৯ জন, জাপান ইলেকশন অবজারভার মিশন থেকে ২৫ জন।

এ ছাড়া জার্মানি দূতাবাস থেকে একজন, বৃটিশ হাইকমিশন থেকে ২৪ জন, আমেরিকান দূতাবাস থেকে চারজন, ভারতীয় হাইকমিশন থেকে ১১ জন, সুইডিশ দূতবাস থেকে দুই জন, নেপাল দূতাবাস থেকে একজন, ইন্ডিয়া ফোরাম এশিয়া থেকে ১২ জন এবং ওআইসি থেকে দুইজন পর্যবেক্ষন করেছিলেন।

এর আগে ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ২২৫ জন পর্যবেক্ষক অংশ নিয়েছিলেন এবং ১৯৯৬ সালের বিতর্কিত সপ্তম সংসদ নির্বাচনে এর সংখ্যা ছিল ২৬৫।

অন্যদিকে দেশীয় ১২০টি নিবন্ধিত পর্যবেক্ষক সংস্থার মধ্যে মাত্র ৩৫টি আবেদন করেছে। এর মধ্যে দেশীয় ২২টি পর্যবেক্ষক সংস্থার ১০ হাজার স্থানীয় পর্যবেক্ষক এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানিয়েছে ইসি।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশি পর্যবেক্ষক ছিল এক লাক ৫৮ হাজার ৯৭৮ জন। যার মধ্যে ইডব্লিউজির ছিল এক লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৫ জন।