শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টায় পুলিশের দায়ের করা মামলার আসামি নাজমুল মাকসুদ মুরাদ এখন বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর কব্জায়। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারপোলের সহায়তায় মুরাদকে গ্রেফতারের পর বুধবার দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বুধবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি’র প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর বিশেষ পুলিশ সুপার আবুল কাহার আকন্দ একথা জানান।
তিনি বলেন,২০১১ সালে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিস ইস্যু করে ইন্টারপোলের সহযোগিতা কামনা করে সিআইডি। এর পরিপ্রেক্ষিতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষ ২০১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার আটলান্টা শহর থেকে মুরাদকে গ্রেফতার করে। এরপর চলতি বছরের ১৯ মার্চ এফবিআই ও যুক্তরাষ্ট্র পুলিশের সহযোগিতায় আজ (বুধবার) তাকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান,১৯৮৯ সালের ১০ অগাস্ট মধ্যরাতে ফ্রিডম পার্টির সদস্য কাজল ও কবিরের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি দল ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে হামলা করে। তারা একযোগে গুলি চালিয়ে ও বোমা ফাটিয়ে ‘ফারুক রশীদ জিন্দাবাদ’ শ্লোগান দিয়ে চলে যায়।
পরে এই ঘটনায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য জহিরুল ইসলাম ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন।
১৯৯৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ মামলাটিতে অভিযোগপত্র দেয়, তাতে ফ্রিডম পার্টির নেতা ও বঙ্গবন্ধুর খুনী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) সৈয়দ ফারুক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবদুর রশিদ ও মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) বজলুল হুদা এবং নাজমুল মাকসুদ মুরাদসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়।
দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর ২০০৯ সালের ৫ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়। ২৭ অগাস্ট শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ।
মামলার ৪ আসামি গোলাম সারোয়ার,সোহেল,জর্জ,মো. শাজাহান বালু কারাগারে রয়েছেন। জামিনে রয়েছেন হুমায়ুন কবির (১),মিজানুর রহমান,খন্দকার আমিরুল ইসলাম কাজল ও গাজী ইমাম হোসেন।
অপর ৫ আসামি লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুর রশীদ,মো. হুমায়ুন কবীর (২),জাফর আহম্মদ, নাজমুল মাকসুদ মুরাদ,রেজাউল ইসলাম খান পলাতক।
এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় সৈয়দ ফারুক রশীদ ও বজলুল হুদার ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাদের মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।
প্রায় ৫ বছর আগে অভিযোগ গঠন হলেও আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটকে না পাওয়ায় মামলাটির বিচারকাজ বর্তমানে আটকে আছে।
এঘটনা ছাড়াও অন্যান্য গুরুতর অপরাধ কর্মের সাথে জড়িত থাকার কারণে নাজমুল মাকসুদ মুরাদ পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বলেও জানান সিআইডি’র এর বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ।
ঢাকা,জেইউ,১৬ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ