সোনা চোরাচালানের সঙ্গে বিমানবন্দরের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কিছু অসৎ কর্মকর্তা জড়িত বলে তথ্য পেয়েছে ডিএমপি।
মঙ্গলবার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, সোনা চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িতসন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
দুপুর ১২টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
আটককৃতরা হলেন- নজরুল ইসলাম লিটন (৪৬), ইকরামুল হক পারভেজ (৫১), মিজানুর রহমান রিপন (৩২), আবুল হোসেন সুমন (৩৩), অসীম কুমার সিংহ (৩৭), আব্দুল কাদের (৩৩), আনিসুর রহমান (৩৪), বাবুল পোদ্দার (৫৪), আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া (৪১) এবং জাহিদুর রহমান (৩৫)।
মনিরুল ইসলাম বলেন, আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে বিমানবন্দরে দায়িত্বরত ৩০টি গোয়েন্দা সংস্থা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কেউ কেউ এসব চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
তিনি বলেন, গত ২৮ এপ্রিল শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ১০৫ কেজি সোনা আটকের পর ছায়া তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এই চক্রকে ধরতে গুপ্তচর নিয়োগ করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন এলাকা থেকে ৯ জনকে আটক করা হয়।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ চক্রের মূলহোতা লিটনকে পুরানা পল্টনের একটি বাসা থেকে আটক করা হয়।  
তিনি আরও বলেন, এই চক্রটি গত কয়েক বছর ধরে প্রতি সপ্তাহে গড়ে দুইটি করে সোনার চালান নিয়ে আসে। মূলহোতা লিটন দুবাই ও সিঙ্গাপুরে বসে বাংলাদেশে সোনা পাঠান। আর দেশে বসে পারভেজ সেই সোনা বিভিন্ন মার্কেট ও সীমান্ত দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পাঠিয়ে দেয়।
মনিরুল ইসলাম আরো জানান, গোয়েন্দা নজরদারির বিষয়টি বুঝতে পেরে চক্রের ৯ জন পালিয়ে মালয়শিয়ায় যাচ্ছিল। আর পরের দিন নজরুল ইসলাম লিটনের সিঙ্গাপুর যাওয়ার কথা ছিল।
আটক ১০ জনকে ১০৫ কেজির সোনা চোরাচালান মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আর লিটনের বিরুদ্ধে নতুন করে  ৮ কেজি সোনা উদ্ধারের ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা করা হবে।
[b]ঢাকা, ৩ জুন (টাইমনিউজবিডি)//এনএস[/b]