কুষ্টিয়ায় পানির জন্য হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে। এককালের প্রমত্তা পদ্মা নদী এখন প্রায় পানিশূন্য। ক্রমেই পদ্মা নদী শুকিয়ে শীর্ণ খালে পরিণত হচ্ছে। যতদূর চোখ যায় চারদিকে শুধু ধুধু বালুচর ও বিস্তীর্ণ আবাদি জমি। পদ্মা মরে গিয়ে ছোট থেকে আরও ছোট হয়ে আসছে। স্থানভেদে কোথাও কোথাও পদ্মা এখন মাত্র ২০০ মিটার চওড়া নদী।
কালের সাক্ষী হয়ে ধুধু বালুচর ও আবাদি জমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে দেশের বৃহত্তম রেলসেতু হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ্ সেতু। হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ১৫টি স্প্যানের মধ্যে ১০টিই এখন পানিশূন্য অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে বালুচরে।
শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গা নদীর পানির ভাগাভাগির লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে ভারত সরকারের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি পানি চুক্তি করে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সময় অবহিত করে প্রতিটি মাসকে ৩টি চক্রে ভাগ করা হয়েছে। কোন চক্রে কী পরিমাণ পানি পাবে তা চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে। ঠিকমতো পানি বণ্টন হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) সদস্যরা বাংলাদেশ-ভারত সফর করেন।
যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) সূত্র জানায়, চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ সব সময়ই বঞ্চিত হয়েছে ন্যায্য হিস্যা থেকে। ভেড়ামারা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টকে পানি প্রবাহ ও গবেষণা পয়েন্ট হিসেবে ধরে পর্যবেক্ষণ করে থাকে বাংলাদেশ ও ভারতের দুটি বিশেষজ্ঞ দল। এ পয়েন্টে দিন দিন পানি প্রবাহের পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে।
গত ১ জানুয়ারি থেকে ভারতের দুই সদস্যের এবং বাংলাদেশের ৩ সদস্যের যৌথ বিশেষজ্ঞ দল হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর এত নিচে নেমে গেছে যে এভাবে চললে ১০ বছর পর এ অঞ্চলে পানি পাওয়া কঠিন হবে।
তা ছাড়া বৃষ্টিপাত না থাকায় বিশুদ্ধ পানির প্রাপ্যতাও দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলেন, জলবায়ু পবির্তনের কারণে পৃথিবীর নদীগুলোর ভূগর্ভস্থ উচ্চতা বেড়েছে এবং পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। পানি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
ভেড়ামারা পাম্প স্টেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন জানান, পানি না পাওয়ায় ইতিমধ্যে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ পাম্প বন্ধ হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানান, ফারাক্কার প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের ৫৪টি নদী শুকিয়ে গেছে, শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়ছে। পানির অভাবে বন্ধ হওয়ার পথে দেশের বৃহত্তম গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প। প্রকল্পের আওতায় ৪ লাখ ৮৮ হাজার একর জমিতে সেচ সরবরাহ করার কথা থাকলেও পানির অভাবে ১ লাখ ১৬ হাজার একর জমিতে সেচ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে এই অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের জীবন জীবিকাসহ উত্তর-দক্ষিণ, পশ্চিমাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে।
[b]কুষ্টিয়া, ৫ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসএইচ[/b]