প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জিয়াউর রহমান কারফিউ জারি করে দেশ চালাতেন । দেশে ফেরার পর আমাকে ৩২ নম্বর বাড়িতে পর্যন্ত যেতে দেননি।
শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনের হলরুমে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৩৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের নাম নিশানা মুছে দিতে চেয়েছিলেন প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। দেশের মাটি থেকে মুক্তিযুদ্ধের চিহ্ন ও চেতনাকেও নষ্ট করে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। তার আশ্রয় প্রশ্রয়েই দেশে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির উত্থান ঘটেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তেমনি এক রাজনৈতিক ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ প্রতিকূল অবস্থা এবং ঘোর ঝড়বৃষ্টির মধ্যে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে দেশে ফিরে আসি। সেদিন একমাত্র সাহস আর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উৎসাহ ছাড়া আর কোনো সম্বলই ছিলো না।
শেখ হাসিনা বলেন, যেদিন দেশে ফিরি সেদিন লাখো মানুষের ঢল ছিলো, তাদের ভালোবাসা ছিলো। কিন্তু ছিল না সেই ভালোবাসার মানুষগুলো যাদের ভালোবাসাই সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশিত।
তিনি বলেন, সবাইকে রেখে দেশ ছেড়েছিলাম কিন্তু ফিরে এসে দেখি কেউ নেই। বনানী কবরস্থানে সারি সারি কবর।
৩২ নম্বরের সামনে লেকের পাড়ে বসে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে দিতাম। এযে কত বড় কষ্টের তা ভুক্তভোগী মানুষটিই বলতে পারবে, বলেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, এর মাঝেও একটা চিন্তা মাথায় কাজ করতো, আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে রাখতে হবে, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। এই চেতনাই তখন সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ওঠে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জাতির পিতার কন্যা, এর চেয়ে আর কোনো পরিচয় আমার প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষকেই মহান আল্লাহ কিছু কাজ দিয়ে পাঠান। আমাকেও তিনি যে কাজটি দিয়েছেন তা আমি পালন করে যেতে চাই। আর সাহসের সঙ্গে তা করে গেলে আল্লাহই আমাকে রক্ষা করবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সব সময় একটা বিষয়েই জোর দিয়েছি, আমার জন্য দেশের ও দলের যেন কোনও ক্ষতি না হয়। আমার কারণে যেন দলের নেতাকর্মীদের হেয় হতে না হয়।
শেখ হাসিনা এসময় তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আওয়ামী লীগের সেসব নেতাকর্মী ভূমিকা রেখেছিলেন, লন্ডনে দলের পক্ষে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পক্ষে জনমত গঠনে যারা পাশে ছিলেন তাদের কথা স্মরণ করেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর বিদেশে তাকে ও ছোট বোন রেহানাকে যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন তাদের কথাও স্মরণ করেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী চক্র লন্ডনেও সক্রিয় ছিলো তাদের নানা ধরনের তৎপরতার মধ্যে টিকে থাকাই ছিলো কষ্টকর।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পরিচালনায় এই আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।
[b]ঢাকা, ১৭ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]
জিয়াউর রহমান কারফিউ দিয়ে দেশ চালাতেন : শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জিয়াউর রহমান কারফিউ জারি করে দেশ চালাতেন । দেশে ফেরার পর আমাকে ৩২ নম্বর বাড়িতে পর্যন্ত যেতে দেননি
শেখ হাসিনার ফেরার আলোচনা ঘিরে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে দেব না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার আলোচনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ সরকার দেবে না। শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার জন্য প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবেশী দেশের কাছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কয়েক দফা অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
আমরাও চাই শেখ হাসিনা দেশে ফিরুন, মানুষ তাঁর বিচার দেখতে চায়: প্রতিমন্ত্রী
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে মন্তব্য করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, দেশের মানুষ তাঁর বিচার দেখতে অপেক্ষা করছে। তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক—ইতিহাসের এই সত্য মুছে ফেলা যাবে না।
গ্রেপ্তার ২ নওগাঁয় শেখ হাসিনা আসবে বলে মাইকিং
নওগাঁর মান্দায় অটোরিকশায় মাইকিং করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার ঘটনায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে।
১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই: স্পিকার
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি।
আ’লীগের নেতা-কর্মীরাও মদ খায় সব বাটপারের কারখানা: স্পিকার
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একমাত্র শেখ হাসিনাই কারচুপি করে ক্ষমতায় টিকে ছিলেন। শেষমেশ দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে তিনি ভারতে পালিয়ে গেছেন। আমরা এ ধরনের রাজনীতি করিনি; ঢাকায় আমার নিজের কোনো বাড়ি নেই, অথচ তাদের জাবেদ নামের এক এমপির বিদেশেই সাড়ে চারশত বাড়ি রয়েছে।’
















