নারায়ণগঞ্জের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের স্বাভাবিক মৃত্যু না হয়ে মানসিক টর্চারের কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার ছোট ভাই সেলিম ওসমান।
সোমবার রাতে প্রয়াত নাসিম ওসমানের রাজনৈতিক ও জেলা জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে সেলিম ওসমান এই দাবি করেন।
জাতীয় পার্টিতে সদ্য যোগদান করা সেলিম ওসমান বলেছেন, ‘আমার বড় ভাই নাসিম ওসমানের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। তাকে মানসিকভাবে অনেক টর্চার করা হয়েছে। মানসিক টর্চারের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোনো নেতা নই। আমি মাত্র জাতীয় পার্টিতে সদস্য হিসেবে যোগদান করেছি। নেতা আপনারাই যারা দীর্ঘ দিন যাবত জাতীয় পার্টিতে আছেন। আমি শুধু দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। এখন যারা কমিটি নেতৃত্বস্থানে আছেন তারাই জাতীয় পার্টি চালাবেন। আমি তাদের নেতৃত্বেই চলবো।’
সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমি সর্বশেষ ১৯৭৪ সালে এই অফিসে এসেছিলাম। তখন আমার বাবা আমাকে বের করে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন তোমার রাজনীতি করার দরকার নাই। এখন আপনাদের ডাকে আর আমার মায়ের নির্দেশ পালন করতে আমি এখানে এসেছি। আমাকে কেউ অসম্মান করবেন না। যারা ব্যক্তি স্বার্থে রাজনীতি করতে চান তারা চলে যেতে পারেন। আগে নারায়ণগঞ্জকে ঠিক করতে হবে। নারায়ণগঞ্জ ঠিক না থাকলে কিছুই থাকবে না।’
মেয়র আইভীর প্রসঙ্গ তুলে সেলিম বলেন, ‘আমি মেয়র আইভীকে ফোন দিয়েছিলাম কিন্তু সেটা সমর্থনের জন্য নয়। তিনি সমর্থন দিবেন কি দিবেন না সেটা উনার ব্যাপার। উনি মেয়র। মেয়রের চেয়ারের একটা সম্মান আছে। আমি সেই চেয়ারের সম্মানে তাকে ফোন দিয়েছে।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সেলিম ওসমান বলেন, ‘এখন অনেকেই আপনাদের রাগিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবে। আপনারা রাগকে হারাম করবেন। এটা আমার অনুরোধ। এরপরও যদি কেউ আমাদের নিয়ে বেশি খোঁচাখুচি করে তাহলে তাদের কীভাবে জবাব দিতে হয় তা আমাদের জানা আছে। আর আমরা যাকে জবাব দিব সে আর উঠে দাঁড়াতে পারবে না।’
জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহেরের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ খোন্দকার, মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আকরাম আলী শাহীন, মহানগর জাতীয় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল খায়ের ভূইয়া, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি কাজী মোহাম্মদ, শহর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ্ মাসুদুর রহমান খসরু, বন্দর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আলেয়া বেগম, সদর উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির, গোগনগর ইউপি চোয়ারম্যান নওশেদ আলী, আলীরটেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন, সাবেক আলীর টেক ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি, খালেদ হায়দার খান কাজল, মোদাচ্ছেরুল হক দুলাল, ফারুক হোসেন, শফিউদ্দিন প্রধান প্রমুখ।
প্রসঙ্গত: আগামী ২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপ নির্বাচনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৮ মে সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। এ আসনের সদ্য প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমান হলেন সেলিম ওসমানের বড় ভাই।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসিম ওসমানের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। ২৯ এপ্রিল দিনগত রাত ১টায় ভারতের দেরাদুনের একটি ক্লিনিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নাসিম ওসমান।
ঢাকা, ২জুন (টাইমনিউজবিডি) //জেডআই