[b]ঢাকা:[/b] বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ডাকা ২৯ ডিসেম্বরের 'মার্চ ফর ডেমোক্রেসি'র সমর্থনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের মিছিলে আওয়ামী লীগের হামলা ও সংবিধান পোড়ানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট আইনজীবীরা।
সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আইনজীবীদের ওপর হামলার এই ধরনের লজ্জ্বাকর ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে আর একটিও নেই।
তিনি বলেন, এই ঘটনা আমাদেরকে পৃথিবীর সামনে জাতি হিসাবে কলঙ্কিত করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের এই অবস্থার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার লোভকে দায়ী করেন মাহবুব।
খন্দকার মাহবুব বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন প্রহসনের নির্বাচন। প্রহসনের নির্বাচন হলে গণতন্ত্রের কবর রচনা হবে।
তিনি বলেন, জনগণ ভোট দিতে যাবে না, তবুও ডিজিটাল পদ্ধতিতে ৮০ শতাংশ ভোট কাষ্টিং হয়েছে বলে বিশ্ববাসীকে দেখাবে।
তিনি বলেন, আইনজীবীদের কালো পোশাক অনেক কঠিন। ২৯ এবং ৩০ ডিসেম্বর সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবীদের উপর হামলা করে, আইনের শাসনের ওপর পদাঘাত করা হয়েছে।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ডিএমপি পুলিশ কমিশনার বলেছেন, আইনজীবীরা সুপ্রিমকোর্টকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। কতটুকু সাহস থাকলে পুলিশের মতো জনগণের কর্মচারী এমন কথা বলতে পারে?
প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক বলেছেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতে ঢুকে বহিরাগতদের দ্বারা আইনজীবীদের ওপর হামলার ঘটনায় সুপ্রিমকোর্টের জানাযা হয়ে গেছে।
ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আরো বলেন,বিরোধী দলের মার্চ ফর ডেমোক্রেসি করতে দিলে কি হত? এতে কি কোন অপরাধ হতো? কী অদ্ভুত গণতন্ত্র? এর নামই যদি গণতন্ত্র হয় তাহলে এ গণতন্ত্র আমরা চাই না।
তিনি বলেন,দুই নেত্রী একে অন্যকে দেখতে পারেন না। এমনকি একে অন্যকে সম্বোধনও করেন না।
তিনি বলেন,দেশে এখন নেত্রী নয় নেতা দরকার।এমন পদ্ধতি করা দরকার যাতে একজন ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে না পারেন।
রফিকুল হক বলেন, দেশের অভ্যন্তরীন বিষয় নিয়ে ভিন্ন দেশের লোক এসে যদি ডিক্টেশন দিতে হয় তাহলে আমাদের গলায় দরি দেয়া উচিত।
রাষ্ট্র বিজ্ঞানী ড. এমাজ উদ্দিন বলেন, একটি দেশ চলে তিনটি বিভাগের মাধ্যমে। এর মধ্যে আইনসভা/ সংসদ আইন তৈরি করে আর বিচার বিভাগ আইনের লালন পালন করে।
তিনি বলেন, নির্বাহী বিভাগকে আইন প্রয়োগের নির্দেশনা দেয় যে বিচার বিভাগ। সেখানে প্রশাসনের লোকের সাহায্যে বহিরাগত আওয়ামী লীগ কর্মীদের হামলা সংবিধানের ও বিচার বিভাগের মারাত্মক অবমাননা।
তিনি বলেন, এই ঘটনায় সরকার এখনো কোন বিচারের পদক্ষেপ না নেয়ায় বিচার বিভাগের কোন স্বাধীনতা নাই তারই প্রমাণ পেয়েছে।
তিনি বলেন, ফুটপাতের লোক, বাসের কর্মচারি ও মজুরদের দিয়ে আইনজীবীদের ওপর হামলায় বিচার বিভাগের মৃত্যু হয়েছে।
রাষ্ট্রের প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, সুপ্রিম কোর্টে হামলা কে বা কারা করেছে এটা বড় বিষয় নয়। হামলাকারীরা যেই হউক আওয়ামী লীগ কর্মী অথবা পুলিশ সদস্য হউক তদন্ত সাপেক্ষে তাদেরকে বিচারের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট এবং আইনজীবীদের ওপর এভাবে হামলা হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব হবে। যেকোনো ভাবেই হউক হামলাকারীদের বিচার করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মাহবুবে আলম বলেন, এরপর যদি আর আইনজীবীদের ওপর এভাবে হামলা হয়, তাহলে বিচার বিভাগের কবর হয়ে যাবে।
সাধারণ বেশ কয়েকজন আইনজীবী বলেন, সুপ্রিম কোর্টে হামলায় সংবিধানের কবর রচনা হয়েছে। এই হামলার সঠিক তদন্ত ও বিচার না হলে সুপ্রিম কোর্ট আর কখনোই সম্মান পাবে না। এভাবে বিচার বিভাগে হামলা জাতীয় সত্ত্বায় হামলার শামিল।





