[b]ঢাকা: [/b]দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং নতুন সরকার গঠনে সাংবিধানিকভাবে কোনো বাধা নেই বলে মনে করেন রাজনীতিবিদ ও আইন বিশেষজ্ঞরা।
সংসদ সংশ্লিষ্টরাও একই অভিমত দিয়েছেন। তবে ভিন্ন মতও রয়েছে অনেকের। তাদের মতে, একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান, নির্বাচনের পর গেজেট আকারে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নাম প্রকাশ এবং শপথ গ্রহণে সাংবিধানিক কোনো বাধা নেই।
সংবিধান রক্ষা করেই সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারা আরও বলেন, সংসদ সদস্যের মেয়াদকাল শুরু হয় সংসদ অধিবেশন শুরুর দিন থেকে। সেই হিসেবে দশম সংসদ শুরু হবে ২৪ জানুয়ারির পর থেকে।
এ অবস্থায় আগে শপথ নিলে কোনো সমস্যা নেই। নির্বাচনের পর নির্বাচিতদের নাম গেজেট আকারে প্রকাশের পর তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ এবং ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে সংবিধানে।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে এ নিয়মের ব্যত্যয় হয়নি। বরং সংবিধান মেনেই কাজটি করা হয়েছে। এর ভিন্ন মতও রয়েছে। এই অংশের মতে, নবম সংসদ শেষ হওয়ার পরই কেবল মাত্র দশম সংসদ যাত্রা শুরু করতে পারবে।
একটি সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় আরেকটি সংসদের সদস্যদের শপথ গ্রহণ হতে পারে না। এ প্রসঙ্গে এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, দশম সংসদ নির্বাচন এবং গেজেট প্রকাশের পর শপথ নেয়া সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।
২৪ জানুয়ারি ৯ম সংসদের মেয়াদ শেষে দশম সংসদ বসবে। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য প্রধান আইনবিদ ও পার্লামেন্টেরিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, শপথ গ্রহণে কোনো বাধা নেই। যারা বাধার কথা বলছেন তারা না জেনে-বুঝে বলছেন। একই দলের আরেক উপদেষ্টা মণ্ডলীর অন্যতম সদস্য তোফায়েল আহমদ বলেন, শপথ গ্রহণে কোনো বাধা নেই।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, দশম সংসদের সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নবম সংসদের আপনাআপনি বিলুপ্তি ঘটে গেছে।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, একটি সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় আরেকটি সংসদের সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন। যা অবান্তর।
সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু বলেন, দশম জাতীয় সংসদের কার্যকরিতা শুরু হবে ২৪ জানুয়ারির পর থেকে। সংসদের প্রথম বৈঠক থেকে।
নবম সংসদ শেষ হবে ২৪ জানুয়ারি। এরপরই শুরু হবে দশম সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। দশম সংসদের শপথ গ্রহণের ফলে সংবিধান লংঘন করা হয়নি। নবম জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদও একই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সংবিধান মেনেই নবনির্বাচিতরা শপথ নিয়েছেন।
জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আমরা তো নবম সংসদের সদস্য নই। আমরা দশম সংসদের সদস্য। তাই শপথ নিতে বাধা কোথায়? একটি সংসদ বহাল রেখে আরেকটি সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের ফলে সাংবিধানিক জটিলতা দেখা দেবে- কারও কারও এমন বক্তব্যের জবাবে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, যারা এটা বলছেন তারা মূলত বিতর্ক তৈরির জন্য বলছেন।
শপথ গ্রহণে সাংবিধানিকভাবে কোনো বাধা নেই বলে দাবি করেন তিনি। ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি নতুন সংসদ প্রতিষ্ঠিত হবে এটাই স্বাভাবিক। আগের সংসদের সঙ্গে নতুন সংসদের সদস্যদের শপথ গ্রহণ সাংঘর্ষিক হবে কেন।
তবে এসব বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ভিন্ন মত দেন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক। তিনি বলেন, শপথ মানেই দায়িত্ব গ্রহণ। নবম জাতীয় সংসদের মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি।
সংবিধান অনুযায়ী সংসদ এবং সরকারের মেয়াদ শেষ হবে ২৪ জানুয়ারি। এরই মধ্যে দশম জাতীয় সংসদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। যা সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ এবং ১২৩(৩) অনুচ্ছেদ ভালোভাবে দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।
ব্যারিস্টার রফিক উল হক আরও বলেন, নবম সংসদ শেষ হয়নি। এ অবস্থায় দশম সংসদের শপথ গ্রহণ এবং একটি নতুন সরকার গঠন করতে চাইলে প্রয়োজনে এ ইস্যুতে সুপ্রিমকোর্টের মতামত নেয়া যেতে পারে। সূত্র: যুগান্তর
শ্রেণীহীন
এমপিদের শপথের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক
ব্যারিস্টার রফিক উল হক আরও বলেন, নবম সংসদ শেষ হয়নি। এ অবস্থায় দশম সংসদের শপথ গ্রহণ এবং একটি নতুন সরকার গঠন করতে চাইলে প্রয়োজনে এ ইস্যুতে সুপ্রিমকোর্টের মতামত নেয়া যেতে পারে।





