স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন বিদেশে। প্রত্যাশা ছিল একটু সচ্ছলতার, একটু ভালভাবে বাঁচার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না।
সুখের স্বপ্ন আর আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা পরিণত হলো দুঃস্বপ্নে; চরম নিরাশায়। প্রতিদিন এমন দুঃস্বপ্ন সঙ্গী করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে ফিরছেন শ্রমিকরা। তাদের অনেকে অবৈধ ছিলেন। আবার কেউ কেউ প্রতারণার শিকার হয়ে দেশে ফিরছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ধরপাকড় বাড়ায় শ্রমিকদের দেশে ফেরার হারও বাড়ছে।
মালিকরা তাদের ‘ওয়ার্ক পারমিট’ বাতিল করে ফেরত পাঠাচ্ছেন। কাজের অনুমতি বাতিল করে বলে দেয়া হচ্ছে, দেশে যাওয়ার পর তাদের জন্য আবার ‘ভিসা’ দেয়া হবে। তাদের বলা হচ্ছে না যে, বাংলাদেশ থেকে এখন নতুন করে ভিসা দেয়া হচ্ছে না। ফলে তারা দেশে এসেই জানতে পারছেন যে, তারা প্রতারিত হয়েছেন।
এমনটি জানান ওমান থেকে ফেরত রুবেল আহমদ। বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়ায়। দু’বছর কাজ করে তার ভিসা বাতিল করে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে আবার ওয়ার্ক পারমিট পাঠাবে।
তিনি বলেন, মালিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আমাকে আবার নেবেন। নতুন করে ভিসা লাগিয়ে যাব। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে বাংলাদেশীদের ধরে ধরে দেশে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।
কে বৈধ, কে অবৈধ তা আমলে নেয়া হচ্ছে না। তবে বেশি ফিরছেন অবৈধ শ্রমিকরা। গত দু’দিন হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থান করে শ্রমিকদের দেশে ফেরার স্রোত দেখা গেছে। প্রতিদিনই বিমানবন্দরে তাদের ফেরত আসার লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছ।
এদিকে, গত প্রায় ৩ সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশী শ্রমবাজারের অন্যতম দেশ দুবাইয়ে চলছে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান। এতে শতাধিক বাংলাদেশী ধরা পড়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশে ফেরা শ্রমিকরা।
বর্তমানে দুবাইয়ে কোন ভিসা দেয়া হচ্ছে না। তাছাড়া আগে বিমানবন্দরে ৯৬ ঘণ্টার যে ট্রানজিট ভিসা দেয়া হতো, সেটাও এখন বন্ধ। শুধুমাত্র আমেরিকার নাগরিকদের জন্য ২৪ ঘণ্টার ট্রানজিট ভিসার সুযোগ রাখা হয়েছে।
দুবাই বিমানবন্দরে বিশ্বের বৃহত্তর একটি বিমান সংস্থায় কাজ করেন এমন এক শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, দুবাই এক্সপোতে নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ দুবাইকে ভোট না দিয়ে রাশিয়াকে ভোট দেয়। এজন্য সেখানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যার কারণে এখন বাংলাদেশকে আরও বেশি বিদ্বেষের চোখে দেখা হচ্ছে।
কুড়িগ্রামের দেলওয়ার হোসেন শুক্রবার সকালে কাতার এয়ারয়েজে করে কাতার থেকে দেশে ফেরেন। তাকেও একেবারে ফিরে আসতে হয়েছে। তিনি বলেন, সেখানকার কোম্পানিগুলো খারাপ। তারা বাংলাদেশী শ্রমিকদের ওপর থেকে আস্থা সরিয়ে নিচ্ছে। ‘মিসকিন’ হিসেবেই দেখে আমাদের।
সেখানকার আশপাশের কোনো দেশেই বাংলাদেশীরা ভাল অবস্থানে নেই। কেন নেই, সেটা আমরা জানি না। কিন্তু জানি যে, আমাদের আর তারা আগের মতো পছন্দ করছেন না।
তিনি জানান, কাতার, বাহরাইন- এসব দেশ থেকে শ্রমিকদের ভিসা বাতিল করে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। কোনো অপরাধ না থাকলেও রক্ষা পাচ্ছেন না। সৌদি আরবে অবৈধ অভিভাবসনবিরোধী অভিযান চললেও মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশে তা হচ্ছে না।
তারপরও চলছে বাংলাদেশী শ্রমিক ছাঁটাই। এজন্য সেখানে থাকা শ্রমিকরা ভয়ে-আতঙ্কে আছেন। নিজের প্রবাস জীবন নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় আছেন।
ফেনীর মোজাম্মেল হক দুবাই থেকে দেশের মাটিতে নেমে নিজের হতাশার কথা ব্যক্ত করে বলেন, দুবাইতে ভিসা বন্ধ। তবুও কোম্পানি আশ্বস্ত করেছে যে ভিসা দেয়া আবার শুরু হবে। এই বলে তাদের দেশে পাঠায়।
তিনি বলেন, আমার মতো আরও অনেকে এসেছেন একই ফ্লাইটে। সেখানে বাংলাদেশীদের ভাল চোখে দেখে না। তার চেয়ে ভাল অবস্থানে আছেন ভারতীয় ও পাকিস্তানি শ্রমিকরা। তাদের বেতনও ভাল।
দিন যত যাচ্ছে বাংলাদেশীদের অবস্থা ততই খারাপ হচ্ছে। দুপুরে একটি ফ্লাইটে লেবানন থেকে দেশে ফেরেন রংপুর পীরগাছার সাকিরুন খাতুন। সেখানে তিনি গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন ৩ বছর। জানান, নারী-পুরুষ কেউই সুখে নেই। বাসায় কাজ করতে গিয়ে নারীদেরও সমস্যা হচ্ছে। ভাষা না বোঝা, পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারা এবং কাজের দক্ষতা না থাকায় বেশি বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। সূত্র: মানবজমিন
[b]ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডিডটকম)//ইএইচ[/b]
শ্রেণীহীন
মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতারিত হয়ে ফিরছেন শ্রমিকরা
‘ওয়ার্ক পারমিট’ বাতিল করে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। কাজের অনুমতি বাতিল করে বলে দেয়া হচ্ছে, দেশে যাওয়ার পর তাদের জন্য আবার ‘ভিসা’ দেয়া হবে। তাদের বলা হচ্ছে না যে, বাংলাদেশ থেকে এখন নতুন করে ভিসা দেয়া হচ্ছে না। ফলে তারা দেশে এসেই জানতে পারছেন যে, তারা প্রতারিত হয়েছেন।





