[b]ঢাকা:[/b] ৫ জানুয়ারি একদলীয় ভোটার ও প্রার্থীবিহীন নির্বাচন নিয়ে কূটনীতিকরা হতাশা ব্যক্ত করে দ্রুত সময়ে সংলাপ অনুষ্ঠান করে সব দলের অংশগ্রহণের একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ উন্মুক্ত করতে আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কূটনীতিকবৃন্দ।
তারা বলেছেন, বিএনপির সহিংস কর্মসূচি প্রত্যাহার করায় সংলাপের একটি সুযোগ তৈরী হয়েছে। এখন সরকারের উচিত একটি গ্রহণযোগ্য সংলাপের পরিবেশ তৈরী করা এবং বিরোধী দলকে সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করার সুযোগ দেয়া।
সোমবার বিকালে গুলশানের ‘হোটেল হ্যারিটেজ’ বিএনপির একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে কূটনীতিকরা সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। বৈঠকে ৩৪ টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদের অংশ নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেন, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আমরা হতাশ হয়েছি। ওই নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি।’
তিনি বলেন,‘বিএনপি অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচি পরিহার করেছে, এতে সংলাপের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
মজীনা আরো বলেন,‘বিরোধী দলকে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে, সহিংসতা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপি যেভাবে অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচি বন্ধ করেছে, সেভাবে সরকারকেও এখন সংলাপের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। ’
‘সহায়ক পরিবেশ হচ্ছে-বিরোধী দলের কার্যালয় খুলে দেয়া, তাদের নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দেয়া, তাদেরকে অবাধে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দেয়াসহ গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়া।’
তবে বিএনপিকে সরকারের দেয়া সুযোগের ‘সদ্ব্যবহার’ করতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের আবাসিক প্রতিনিধি উইলিয়াম হানা বলেন,‘৫ জানুয়ারি নির্বাচনে আমরা হতাশ হয়েছি। বাংলাদেশের জনগণ সেদিন তাদের ভোট দিতে পারেনি। বিএনপি অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি বন্ধ করেছে,এটা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। এর ফলে সংলাপের একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে বলে আমরা মনে করি। সরকারেরই উচিত এখন সংলাপের একটি পরিবেশ তৈরি করা।’
এদিকে বৈঠকে দশম সংসদ নির্বাচনের ‘ভোটারবিহীন’ অবস্থার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন কূটনীতিকদের কাছে উপস্থাপন করেছে বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, সহসভাপতি শমসের মবিন চৌধুরী এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সাংবাদিক শফিক রেহমান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন আহমেদও ছিলেন।
বৈঠকের পর শমসের মবিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘দলের আমন্ত্রণে রাষ্ট্রদূতরা এখানে এসেছিলেন। নির্বাচনের বিষয়ে আমরা রাষ্ট্রদূতদের অবহিত করেছি।’
প্রায় এক ঘন্টাব্যাপী বৈঠকে নির্বাচনের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত-কুটনীতিকদের কাছে একটি প্রতিবেদন দেয়া হয়। ৫ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের দিনসহ ওই সময়ে নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রের ভোটার অনুপস্থিতি, ভোট জালিয়ারি, ব্যালট পেপার ছিনতাইসহ বিভিন্ন ভিডিও তথ্যচিত্র কুটনীতিদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। কুটনীতিদের প্রতিবেদনটি সরবারহও করা হয়।
বৈঠকের যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা, কানাডা’র হাইকমিশনার হুদার ক্রুডেন, জার্মানীর রাষ্ট্রদূত আলবার্ট কনিয়ে , ইউরোপীয়ন ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হানাসহ অন্তত ২৪ টি দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও ভারত, পাকিস্তানসহ ১০ টি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রেণীহীন
কূটনীতিকদের হতাশা; গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে সংলাপের তাগিদ
৫ জানুয়ারি একদলীয় ভোটার ও প্রার্থীবিহীন নির্বাচন নিয়ে কূটনীতিকরা হতাশা ব্যক্ত করে দ্রুত সময়ে সংলাপ অনুষ্ঠান করে সব দলের অংশগ্রহণের একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ উন্মুক্ত করতে আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কূটনীতিকবৃন্দ





