[b]ঢাকা:[/b] বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচন বর্জন করে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। কারো নির্দেশনার অপেক্ষা নয়।‘
আজ শনিবার লন্ডন থেকে পাঠানো ভিডিও বার্তায় তারেক রহমান এই আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, “দেশের মানুষ রাজনৈতিক সংকট থেকে মুক্তির কামনায় চেয়ে আছেন বিএনপির দিকে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের দিকে। এত জনসমর্থিত একটি আন্দোলনের সাফল্য ইনশাল্লাহ অনিবার্য। প্রয়োজন শুধু এই সংগ্রামকে - যা চলে আসছে আমাদের বিপুল ত্যাগ-তীতিক্ষা, বহু সহযোদ্ধা ও নিরপরাধ সাধারণ মানুষের প্রাণের মূল্যে - সেই সংগ্রামকে, এই দেশ ও জাতির স্বার্থে যেকোনো মূল্যে অব্যাহত রাখা।”
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক বলেন, “চলমান রাজনীতিতে যেন দেশের এই অস্তিত্বকে ঘিরেই বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আর সার্বভৌমত্বের সংজ্ঞা নিজেদের স্বার্থে বদলে ফেলছে। প্রতিবেশী যে রাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তা ব্যক্তিগত ও সংকীর্ণ স্বার্থে ব্যবহার করে জনমতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে আওয়ামী লীগ। গত পাঁচ বছরে দেশের সম্পদের অভূতপূর্ব লুটপাট, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বর ন্যাক্কারজনক বিনাশ, আর রাজনৈতিক-বিরোধী ও সমালোচকদের নজিরবিহীন দমন করেছে।”
[youtube]Esaq8jq2NOo[/youtube]
তিনি আরো বলেন, “বাকশালের পরিণতি সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত হওয়া এ দেশের জন্য, এ দেশের মানুষের জন্য, এমনকি আওয়ামী লীগের জন্যও তা ভালো ফল বয়ে আনেনি। আমাদের সবার রাজনীতি যেহেতু দেশের কল্যাণার্থেই হওয়া উচিত, তাই মানুষকে সঙ্গে নিয়ে উজ্জ্বল সম্ভাবনার দিকে যাত্রা না করে কেন আমরা আবার সেই অরাজক অতীতে ফিরে যাব?”
তিনি বলেন, “২০০৬ সালে সংবিধান অনুযায়ী বিচারপতি কে.এম. হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে আওয়ামী লীগ মেনে নেয়নি। অভিযোগ করা হয়েছিল যে বিচারপতি কে.এম. হাসান বিএনপিপন্থী। অথচ আজ যে শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হতে চাচ্ছেন, তিনি কেবল অনিরেপক্ষই নন, খোদ আওয়ামী লীগের প্রধান।
তারেক জিয়া বলেন, “কোন ভরসায়, কিসের ভিত্তিতে - বিএনপি বা অন্য যে কোনো দল শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবে? দেশের প্রত্যেকটি মানুষের মতো আমিও প্রশ্ন করতে চাই: সংবিধানের জন্য জনগণ, নাকি জনগণের জন্য সংবিধান? জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে এ পর্যন্ত ১৫ বার আমাদের সংবিধান সংশোধিত হয়েছে। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশের সংবিধানে যদি ৯৮ বার সংশোধন এসে থাকে, তাহলে জনগণের চাওয়া অনুযায়ী, দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে, আমরা কেন ষোড়শ সংশোধনী করতে পারব না?”
তারেক রহমান ১৮ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “বিএনপি ও ১৮ দলের সর্বস্তরের নেতা, কর্মী ও সমর্থকের উদ্দেশ্যে বলছি - ইতিহাস ও রাজনীতির পালাবদল আমাদেরকে আজ এক অন্যরকম অবস্থানে নিয়ে এসেছে। সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী থেকে আজ আমরা পরিণত হয়েছি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সেনানীতে।”
“দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার "দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও" শ্লোগানের মর্মার্থ আজ দেশবাসী পদে-পদে অনুভব করছে। উজ্জ্বল প্রভাতের পূর্বে রাত যেমন গভীর ও অন্ধকার হয়, তেমনি আমাদের উপর নেমে এসেছে অন্য দেশের তাবেদারিতে নিমজ্জিত জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী লীগের গুম, খুন, হামলা, মামলা ও নির্যাতনের স্টিমরোলার। আজ আমাদের লড়াই কোনো সাধারণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়। আজ আমাদের লড়াই একটি বন্দী জাতির মুক্তির জন্য এক অশুভ আশীর্বাদপুষ্ট স্বৈরাচারীর বিরুদ্ধে।”





