লক্ষীপুরের রায়পুর উপজেলা নির্বাচনে সরকারদলীয় প্রার্থী মাস্টার আলতাফ হোসেনের সমর্থকরা অধিকাংশ কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে। এসব কেন্দ্রে মহিলা ভোটারদের মারধর, কেন্দ্রে আসতে বাধা দেয়া ও ব্যাপক জালভোটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চর আবাবিল রচিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও হায়দারগঞ্জ তাহেরিয়া আরএম ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসা কেন্দ্র যুবলীগের সদস্য মোহাম্মদ আলী খোকনের নেতৃত্বে দখল করে রাখা হয়েছে।
বেলা ১১ টার দিকে এই কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ভোটারশূন্য। কিন্তু সব ব্যালটবাক্স জালভোট দিয়ে ভর্তি করে রাখা হয়েছে।
হায়দারগঞ্জ তাহেরিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে ১১টা পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়। এখানে জামায়াত ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর কোন পোলিং এজেন্ট ছিল না।
তিনি আরও জানান, এ সময় সরকার দলীয় প্রার্থী মাস্টার আলতাফ হোসেন প্রিজাইডিং অফিসারকে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ছাড়াই ভোট গ্রহণের জন্য বার বার চাপ দিচ্ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ এই মাদ্রাসা কেন্দ্রে এসব ঘটনা ঘটার সময় র্যা বের একটি টিম সেখানে টহল দিচ্ছিল। কিন্তু তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
১৬নং চরপক্ষী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মহিলা ভোটারদের সরকার সমর্থক প্রার্থীর পক্ষের লোকেরা মারধর করে এবং ভোট কেন্দ্রে আসতে বাধা দেয়্। এই কেন্দ্রেও ব্যাপক জাল ভোটের অভিযোগ রয়েছে। সকালের দিকে এই কেন্দ্রে সরকার সমর্থক কর্মীরা বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।
এ বিষয়ে প্রিজাইডিং অফিসার সাইফুল আলমকে স্থানীয় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, কেন্দ্রের বাইরে কী হচ্ছে সটা আমাদের দেখার বিষয় নয়।
অপরদিকে, এই কে্ন্দ্রে মাত্র তিনজন পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। একজন পুলিশ সদস্য জানান, এত কম ফোর্স দিয়ে এই পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব নয়।
কাজীর চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন খোকনের নেতৃত্বে সরকার সমর্থকরা কেন্দ্রে প্রবেশ করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তখন খোকনের কের্মীর বিএনপি-জামায়াতপন্থী প্রার্থীর দুইজন পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে প্রকাশ্যে মারধর করে।
[b]লক্ষীপুর, আরএ, ৩১ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি  [/b]