চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনের পাঁচ দফার কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফল অযত্নে-অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের দ্বিতীয় ত্বলার খোলা জায়গায়। আইন অনুযায়ী, স্থানীয় নির্বাচনের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল সঠিকভাবে সংরক্ষণের কথা থাকলেও এ বিষয়ে উদাসীন খোদ ইসি।
জানা গেছে, ইসি সচিবালয়ের দ্বিতীয় ত্বলায় প্রবেশ মুখের বারান্দায় স্তুপ আকারে রাখা হয়েছে পাঁচ দফা উপজেলার কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল। বিশাল স্তূপে ফলাফল শিটগুলো অযত্নে ময়লা পড়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাচনের প্রথম দফায় অনুষ্ঠিত দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা, খাগড়াছড়ির রামগড়, সদর, মাটিরাংগা, মহালছড়ি, মানিকছড়ি ও পানছড়ি উপজেলা, ঝিনাইদহ সদর, কালিগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও শৈলকুপা উপজেলা, মাগুড়ার সদর ও শ্রীপুর উপজেলা, ভোলার লালমোহন উপজেলা, মানিকগঞ্জের শিবালয়, দৌলতপুর, সিংগাইর ও সাটুরিয়া, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা, রাজবাড়ী সদর, পাংশা ও বালিয়াকান্দি উপজেলা, পঞ্চগড়ের সদর, বোদা, আটোয়ারী ও দেবীগঞ্জ উপজেলা, রংপুরের তারাগঞ্জ, ও মিঠাপুকুর, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী, ভুরুংগমারী ও উলিপুর উপজেলা, গাইবন্ধার সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা, বগুড়ার দুপচাঁচিয়া, ধুনট, নন্দীগ্রাম, সারিয়াকান্দি, শেরপুর ও সোনাতলা উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল, নাটোরের সিংড়া, সিরাজগঞ্জ সদর, কাজীপুর, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া উপজেলা, মেহেরপুরের সদর উপজেলা, কুষ্টিয়া সদর ও ভেড়ামারা উপজেলা, নড়াইলের কালিয়া, জামালপুরের সদর ও সরিষাবাড়ী উপজেলা, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী ও মকসুদপুর উপজেলা, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ, জজিরা, ডামুড্যা ও গোসাইরহাট উপজেলা, নরসিংদীর পলাশ ও বেলাবো উপজেলা, সুনামগঞ্জের দণি সুনামগঞ্জ, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলা, সিলেটের বিশ্বনাথ, জকিগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, গোয়াইনহাট ও জৈয়ন্তাপুর উপজেলা, হবিগঞ্জের বাহুবল ও মাধবপুর উপজেলা, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও মিরশরাই উপজেলা, নওগাঁর রানীনগর ও মহাদেবপুর উপজেলা, সাতীরার আশাশুনি উপজেলা, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, বজিতপুর ও নিকলী উপজেলা, রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা, পাবনার সুজানগর, সাথিয়া ও আটঘরিয়া উপজেলা, খুলনার দিঘলিয়া ও কয়রা উপজেলা, বরিশালের গৌরনদী ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা, দিনাজপুরের কাহারোল ও খানসামা উপজেলা, নিলফামারীর ডিমলা, সৈয়দপুর ও জলঢাকা উপজেলা, যশোরের অভয়নগর উপজেলা, নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কেন্দুয়া উপজেলার ফলাফলের সিটের উপর ময়লা স্তুপ পরে থাকতে দেখা গেছে।
এছাড়া ২৩ মার্চ তৃতীয় দফায় অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জের চৌহালী, পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত নরসিংদী সদর উপজেলার ফলাফল শিটে ময়লার স্তূপ রয়েছে।
এছাড়া পঞ্চগড় উপজেলা  ঠাকুরগাঁওসহ অধিকাংশ নির্বাচন অনুষ্ঠিত ৪৮৭  উপজেলার অধিকাংশেরই  কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের  উপর ময়লা পরে থাকতে দেখা গেছে। কিন্তু ইসি থেকে সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে ইসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন,  ৪৮৭ টি  উপজেলা মধ্যে  পাঁচ দফায়  ৪৫৮ উপজেলার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।  আর এ পাঁচ দফায় ব্যাপক সহিংসতার মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।  আর এ নির্বাচন নিয়ে ইসির যে গাফিলাতি ছিল এবং সরকারের আজ্ঞাবাহ হিসেবে নির্বাচন কমিশন যে কাজ করেছে। উপজেলা নির্বাচনের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল উন্মুক্তভাবে ফেলে রাখাই এর প্রমান।
তিনি বলেন, এভাবে ফলাফল ফেলে রাখা দায়িত্বহীন কাজ। দ্রুত ফলাফলগুলো সংরক্ষণ করা উচিত।
এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশানার ব্রি. জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, উপজেলা নির্বাচনসহ  সব নির্বাচনের ফলাফল সংরক্ষণে বাধ্য নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে কোন আইনী জটিলতা দেখা দিলে ফলাফলের প্রয়োজন হবে। তাই নির্বাচন কমিশনের স্বার্থে ওই ফলাফল সংরক্ষণ করা উচিত। অথচ নির্বাচন কমিশন ফলাফল যেভাবে অযন্তে ফেলে রেখেছে তা ফেলে রাখা সমীচীন নয়।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. শাহনেওয়াজ বলেন, নির্বাচন কমিশনে জায়গা সংকট রয়েছে। আর এ কারণে ফলাফল বারান্দায় রাখা হয়েছে। খুব  দ্রুত সংসদ নির্বাচনের ফলাফলগুলো সংরক্ষণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শুরু হয়ে ৪৮৭টি উপজেলার মধ্যে পাঁচ ধাপে এ পর্যন্ত মোট ৪৫৯টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম ধাপ, ২৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ১৫ মার্চ তৃতীয় ধাপ, ২৩ মার্চ চতুর্থ ধাপ এবং ৩০ মার্চ পঞ্চম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ১৯ মে আরো ১৩টি উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
[b]ঢাকা, ২৯ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি[/b]