[b]ঢাকা:[/b] আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ নিচ্ছে আজ রোববার। বিকাল সাড়ে ৩টায় বঙ্গভবনে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন শেখ হাসিনা। তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর পর তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে নানা হিসাব-নিকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত মেয়াদের মতো এবারের মন্ত্রিসভায়ও নতুনদের প্রাধান্য থাকছে। গতবারের মন্ত্রীদের বেশিরভাগই বাদ পড়েছেন। নতুন মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের অভিজ্ঞ সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে থাকছেন তরুণ এমপিরাও। এ
দের মধ্যে ক্লিন ইমেজধারী কয়েকজন এমপি রয়েছেন। দলটির নীতিনির্ধারণী মহলের প্রত্যাশা নবীন-প্রবীণ মিলিয়ে একটি শক্তিশালী মন্ত্রিসভা গঠনের।
গণভবন সূত্র জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, সে রকম একটি তালিকা শুক্রবার রাতে তৈরি হয়েছে। ১২-১৫ জনের এ প্রাথমিক তালিকা শনিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে দেয়া হয়। বাকিদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তালিকা শনিবার রাতে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
দলের সিনিয়র নেতাদের মতামত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীদের নামের তালিকা চূড়ান্ত করেন।
এই সংখ্যা ৪৮ হতে পারে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও দুই জন উপমন্ত্রী রয়েছেন বলে ওই সূত্রটি জানিয়েছে। তাদের সবাইকে শপথ গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আমন্ত্রণ জানানো শুরু হয়েছে।  
নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আগের ব্যক্তিরাই থাকছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলাপকালে তারা এমন আভাস পেয়েছেন।
বিশেষ করে অর্থ, কৃষি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পুরনোরাই বহাল থাকতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কোনো সিনিয়র নেতাকে দিতে চান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নাম সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে দলের একজন নীতিনির্ধারক জানিয়েছেন।
তবে তিনি একথাও মনে রাখতে বলেছেন, রেওয়াজ অনুযায়ী দলের সাধারণ সম্পাদকরা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে থাকেন।
স্বাস্থ্যগত কারণে আবুল মাল আবদুল মুহিতকে নিয়ে আওয়ামী লীগ হাইকমান্ডের কেউ কেউ অনাগ্রহী ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত এ যুক্তি টেকেনি বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
শনিবার দলের সিনিয়র নেতা আবুল মাল আবদুল মুহিত, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, আবদুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ওবায়দুল কাদের, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আসাদুজ্জামান নূর, শাজাহান খান, মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, আকম মোজাম্মেল হক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মুজিবুল হক, শামসুর রহমান শরীফ ডিলু, আইনজীবী আনিসুল হক, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাসদের হাসানুল হক ইনু, জাতীয় পার্টি-জেপি'র আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে মন্ত্রী হিসেবে শপথের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এছাড়াও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে আফম বাহাউদ্দীন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, শাহরিয়ার আলম, নারায়ন চন্দ্র চন্দ, বীরেন শিকদার, আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, জুনায়েদ আহমেদ পলককে।
যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম এবং আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বগুড়ার এমপি কৃষিবিদ আবদুল মান্নানও মন্ত্রীর তালিকায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের একটি নীতিনির্ধারণী সূত্র
জানিয়েছেন, দুর্নীতিসহ নানা কারণে বিতর্কিত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নতুন মন্ত্রিসভায় না নেয়ার জন্য দলে এবং দলের বাইরে থেকে প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। যেসব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য গত পাঁচ বছরে অস্বাভাবিক উপায়ে অঢেল ধন-সম্পদের মালিক হয়েছেন, তাদের নতুন মন্ত্রিসভার বাইরে রাখার জন্য শক্ত অবস্থান নিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এসব দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশও করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।
বাদ পড়াদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক ডাক ও টেলিযোগ মন্ত্রী সাহারা খাতুন ও রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, সাবেক প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক ভূমি মন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা, সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, সাবেক সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ, সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিন, সাবেক আইন মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, সাবেক মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাস, সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান তালুকদার, সাবেক প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন, সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শাজাহান মিয়া, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক, সাবেক তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার।  
গণভবন সূত্র জানিয়েছে, দলের জন্য সময় দিতে পারে সে বিবেচনায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী না করার ব্যাপারে প্রাথমিক সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপরও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানককে মন্ত্রী করার ব্যাপারে শক্ত অবস্থান নিয়েছে আওয়ামী লীগের একটি প্রভাবশালী গ্রুপ।
সে ক্ষেত্রে জাহাঙ্গীর কবির নানককে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে অপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলমও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন।