[b]ঢাকা:[/b] উদ্ভোধনের পর ৩ দিন শেষ হলেও এখনো অপ্রস্তত ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। অনেক স্টলে এখনও কাজ চলছে।
নির্দিষ্ট সময়ের ১০ দিন পরে শুরু হলেও ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি এখনো প্রায় ৪০ শতাংশ বাকি রয়েছে। এমনকি কিছু স্টলে কোনো ধরনের প্রস্তুতিমূলক কাজ চোখে পড়েনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে যথাসময়ে মেলার প্রস্তুতির কাজ শেষ করা যায়নি।
মেলার আয়োজক রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বলছে, ৪৭১টি স্টলের মধ্যে ১৫-২০ শতাংশ কাজ বাকি আছে। কাজ সময়মত শেষ না হওয়ার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে বলে দাবি ইপিবি’র। তবে সরেজমিনে উদ্ধোধনের দুই দিন পরেও মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে ইপিবি’র দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
সোমবার বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায় কমপক্ষে ১৮০টি স্টল এবং প্যাভিলিয়ান পণ্য প্রদর্শনীর জন্য প্রস্তুত হয়নি। এর মাঝে বেশ কয়েকটি স্টলের কাজ শেষ হতে এখনো দুই দিনের বেশি সময় লাগবে।
ইপিবি’র এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সময়মত মেলা শুরু হলেও প্যাভিলিয়ান এবং স্টলের কাজ শেষ হয়নি। এটা বাণিজ্য মেলার চিরাচরিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। তবে আমরা আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যে সব কাজ শেষ হবে।’
বাংলাদেশ চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি’র কার্যনির্বাহি সদস্য সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সময়মত প্রয়োজনীয় নির্মাণ সামগ্রী, আসবাবপত্র এবং পণ্যসামগ্রী আনতে পারিনি। এর প্রধানতম কারণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। এ কারণে স্টল এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি।’
আলাউদ্দিন মিয়া। একজন কাঠমিস্ত্রি। কাজ করছেন বাণিজ্য মেলায়। একটি স্টলের কাজের জন্য তিনি চুক্তি করেছেন মাত্র দুই দিন আগে। এই স্টলটির পাশেই দুটি বড় খাবারের স্টল রয়েছে। যার নির্মান কাজ এখনো চলছে। এমনকি ইপিবি’র তথ্য কেন্দ্রের কাজও শেষ হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইপিবি’র এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আয়োজকরা উদ্ধোধন অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত বেশি থাকায় এখানের কাজ শেষ করা যায়নি।’
ইপিবি তথ্য কেন্দ্রের সামনের প্যাভিলিয়ানটি সম্পূর্ন ফাঁকা দেখা যায়। এই প্যাভিলিয়ানের বরাদ্দ পেয়েছে অ্যাপেক্স টেকনোলজি। যারা কম্পিউটার যন্ত্রাংশ আমদানি করে।
এই প্রতিষ্ঠানের ডিজাইনার নাজমুল আজাদ বলেন, ‘আমরা জানুয়ারির ৮ তারিখে প্যাভিলিয়ান বরাদ্দ পেয়েছি। উদ্ধোধনের মাত্র চারদিন আগে। অ্যাপলো ইলেক্ট্রনিক্স কাঠ মিস্ত্রিদের দায়ী করে সময়মত কাজ শেষ না হওয়ার জন্য।’
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ৩য় দিন, ক্রেতা-দর্শনার্থীদের খুব বেশি ভিড় না থাকলেও মেলায় যারা আসছেন তাদের কাছেই পণ্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে চেষ্টার কমতি নেই মেলায় অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মীদের।
তবে মেলার প্রস্তুতি শেষ না হলেও ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা গেছে, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলো। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানান, মূলত প্রচারণার উদ্দেশ্যেই তারা মেলায় অংশ নিচ্ছেন। আর ক্রেতারা মেলা উপলক্ষে টিভি, ফ্রিজ, ওভেনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্যে মূল্য ছাড় পেয়ে বেশ খুশি।
আধুনিক জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর প্যাভিলিয়নগুলো পরিপাটি করে সাজানো হয়েছে। ছোট বা বড় পর্দার বিভিন্ন ধরণের টেলিভিশন, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোয়েভ ওভেন, রেফ্রিজারেটরসহ বিভিন্ন পণ্য আনা হয়েছে মেলায়। আর মেলায় সব পণ্যের ওপরই মূল্যছাড় দিচ্ছে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো।
মেলায় আসা এক দর্শনার্থী জানান, মেলায় অনেক ধরণের পণ্য এক সঙ্গে পাওয়া যায়, পণ্যের মান যাচাই করে সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় করে পণ্য কেনা যায়। মেলায় আসা এক শিক্ষার্থী জানান, এবারই প্রথম বেশকিছু নতুন ধরণের টেলিভিশন দেখলাম, ভাল লাগলো। এক চাকুরিজীবি জানান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ইলেকট্রনিক্স পণ্য দেখছি পছন্দ হলেই, পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে পছন্দের পণ্যটি কিনবো।
এসব প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় কর্মকর্তারাও জানান মেলায় ক্রেতা দর্শনার্থীদের থেকে বিভিন্ন পণ্যের ব্যাপারে মতামত সংগ্রহের সাথ সাথে প্রচারণা টাই মূখ্য উদ্দেশ্য। স্কয়ার ইলেকট্রনিক্সের প্রতিনিধি বলেন, জানুয়ারি মাসের এ মেলায় প্রচারণার মাধ্যমে সারা বছরের বিক্রয় কার্যক্রম চালানো হয়। ওয়ালটন হাইটেক'র প্রতিনিধি বলেন, নতুন বিভিন্ন ধরণের পণ্য এ মেলায় প্রথম আনা হয়, দর্শনার্থীদের মধ্যে এ সকল পণ্যের প্রচারণা চালানো হয় এ মেলার মাধ্যমেই। তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই মেলা জমে ওঠবে। মেলায় প্রবেশ মূল্য গতবারের তুলনায় ১০ টাকা করে বাড়িয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৩০ টাকা এবং শিশুদের টিকেট ২০ টাকা করা হয়েছে।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]