[b]ঢাকা:[/b] মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙ্গে দেয়া হচ্ছে নবম জাতীয় সংসদ। প্রধান বিরোধীদল বিহীন বিতর্কিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে তড়িঘড়ি করেই চলতি সপ্তাহে নতুন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, এ লক্ষ্যে আগামীকাল বৃহস্পতিবার নবম সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে এদিনই দশম সংসদের সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামী রোববার নতুন মন্ত্রীপরিষদ গঠন করা হবে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রমতে, নতুন সরকার গঠনের পরপরই চলমান রাজনৈতিক সংকট ও বিরোধীদলের লাগাতার হরতাল-অবরোধে দেশজুড়ে সৃষ্ট নাশকতা ও নৈরাজ্য কঠোর হাতে দমনের পরিকল্পনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ কারণেই দ্রুততম সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মধ্য জানুয়ারির মধ্যে সরকার গঠন করতে চায় দলটি।
নতুন সরকারে কাদের নেওয়া হবে, তা নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয় নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, আগামী ১২ থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে নতুন সরকারের শপথ নেয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। ১০ জানুয়ারি জাতির জনকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা থেকে জাতির সামনে এ সংক্রান্ত ঘোষণা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। তবে নতুন সরকার গঠনের আগে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ গ্রহণে সাংবিধানিক জটিলতা হবে কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ২৪ জানুয়ারির আগে নির্বাচিত সাংসদদের শপথ গ্রহণে কোনো আইনি জটিলতা নেই বলে আইন বিশেষজ্ঞরা সরকারের শীর্ষ পর্যায়কে জানিয়েছেন। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত নবম জাতীয় সংসদের মেয়াদ আছে। তাই এর আগে নতুন সাংসদদের শপথ গ্রহণে আইনি জটিলতা থাকার কথা কেউ কেউ সরকারের উচ্চপর্যায়কে জানিয়েছিলেন। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী তাঁর আইন উপদেষ্টা, অ্যাটর্নি জেনারেলসহ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা সরকারকে আইনি পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, নির্বাচিত সাংসদেরা শপথ নেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নবম সংসদ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে আইনি বা সাংবিধানিক কোনো জটিলতা দেখা দেবে না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলীয় সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর আইন উপদেষ্টা শফিক আহমেদ। বিকেল সোয়া ৪টায় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে যান এবং সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় বেরিয়ে আসেন। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন বলে জানা গেছে। বৈঠকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং নতুন সরকারের শপথ নিয়ে আলোচনা হয়। তবে আলোচনার বিষয় সম্পর্কে বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে আজ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
বুধবার দুপুর সোয়া দুইটায় গেজেট প্রকাশিত হয়। নির্বাচনের তিন দিনের মাথায় প্রকাশিত হলো এই গেজেট।
তবে গেজেটে নেই যশোর-১ ও যশোর-২ আসনের ফলাফল। প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে এ দুই আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। এ ছাড়া স্থগিত আটটি আসনের ফলাফলের গেজেটও প্রকাশ করা হয়নি। ২৯০টি আসনের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে আগামী তিন দিনের মধ্যেই শপথ নেবেন নির্বাচিত প্রার্থীরা। সংবিধানের ১৪৮ (২) ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এরপর প্রথা অনুযায়ী আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠক ডাকা হবে। ওই বৈঠকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠানো হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি আহ্বান জানানোর সঙ্গে সঙ্গেই নতুন সরকার শপথ নেবে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ে কথা বলে জানা যায়, প্রথমে ২৪ জানুয়ারির পর নতুন সরকারের শপথ নেওয়ার চিন্তাভাবনা ছিল। এ ব্যাপারে আইন উপদেষ্টা, আইনসচিব এবং অ্যাটর্নি জেনারেলসহ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বৈঠক করে সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাসহ বিদ্যমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে শপথ নেওয়া যায় কি না, তা আইন বিশেষজ্ঞদের খতিয়ে দেখতে বলা হয়। তাঁদের পরামর্শেই ১২ জানুয়ারির মধ্যে শপথ নেওয়ার ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, গত সোমবার গণভবনে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন শেষে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সাংসদ ও সরকারের শপথ নিয়ে কথা বলেন তাঁরা। দু-তিনজন নেতা প্রধানমন্ত্রীকে ২৪ জানুয়ারির পর শপথ নেওয়ার কথা বলেন। আবার নেতাদের কেউ কেউ দ্রুত শপথ নেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার কথাও বলেন।
নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ বলেন, সরকার গঠন না করে এভাবে দীর্ঘদিন নির্বাচনকালীন সরকার দায়িত্বে থাকা ঠিক হবে না। খুব দ্রুততম সময়ে নতুন সংসদ এবং সরকার কার্যকর করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকারের শুভানুধ্যায়ীরাও একই পরামর্শ দেন বলে জানা গেছে। সোমবারের বৈঠকেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করে সরকার ও সাংসদদের শপথ নিয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়।
নতুন সরকারে কারা থাকছেন, সে বিষয়টি পরিষ্কার না হলেও দশম সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল সব দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় সরকারের আদলে এ সরকার গঠন করার ইঙ্গিত দিচ্ছেন নীতিনির্ধারকরা। ৩৩ আসন পাওয়া জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে সম্মত হলে সে ক্ষেত্রে ১৪ দল ও মহাজোটের বাকি শরিকদের নিয়ে নতুন সরকার গঠন করা হতে পারে।জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বর্তমানে সিএমএইচে। তার অবর্তমানে দল পরিচালনার 'অঘোষিত দায়িত্বে' থাকা প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদ আজ বুধবার তার গুলশানের বাসায় দলটির নির্বাচিত এমপিদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন। সংসদে বিরোধী দলে থাকা-না থাকা, থাকলে কে বিরোধী নেতা হবেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, জোট নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই তিনি ঠিক করবেন নতুন সরকারের গঠন কেমন হবে। তবে সব দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে সরকার গঠনে তার আপত্তি নেই। অবশ্য জাতীয় পার্টিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, তবে বিরোধী দলও তো লাগবে।
বিরোধী দলের বর্জন আর সারা দেশে সহিংসতার মধ্যে রোববার ১৪৭টি আসনে যে ভোট হয়েছে, তার ১০৪টিতে জয়ী হয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগেই নির্বাচিত হয়েছেন দলের ১২৭ জন। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের আসন দাঁড়িয়েছে ২৩১টিতে।
উল্লেখ্য, চলমান সংকট নিরসনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত তারানকোর বাংলাদেশে অবস্থানের সময় গত ৮ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন সে সময়।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]
শ্রেণীহীন
তড়িঘড়ি করেই রোববার গঠিত হচ্ছে নতুন মন্ত্রিপরিষদ
ঢাকা: মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙ্গে দেয়া হচ্ছে নবম জাতীয় সংসদ। প্রধান বিরোধীদল বিহীন বিতর্কিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে তড়িঘড়ি করেই চলতি সপ্তাহে নতুন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, এ লক্ষ্যে আগামীকাল বৃহস্পতিবার নবম সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে এদিনই দশম সংসদের সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামী রোববার নতুন মন্ত্রীপরিষদ গঠন করা হবে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।





