নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে 'নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩' দ্রুত বলবৎ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনের কার্যকর প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল অবকাশে দুপুর ১২টায় ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক টিআইবি পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদনের প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানানো হয়।
এতে মূল প্রতিবেদনের সারাংশ উপস্থাপন করেন টিআইবি’র গবেষণা ও পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহনুর রহমান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক রফিকুল হাসান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ সত্ত্বেও একটি সার্বিক নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগের অভাব রয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ পাশ হলেও গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আজও তা কার্যকর করা হয়নি।
প্রতিবেদনে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক আইনি কাঠামোতে সীমাবদ্ধতা ও প্রায়োগিক চ্যালেঞ্জ এর যে তথ্য উঠে এসেছে। নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ বলবৎ না করা; ভোক্তার সরাসরি মামলা করার বিধান না থাকা ও ভোক্তার অভিযোগ নিরসনে প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং ভোক্তা বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি কর্তৃক নমুনা পরীক্ষার ব্যয়ভার বহনের বাধ্য করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে দেশের ৩১৯টি পৌরসভা ও ১১টি সিটি কর্পোরেশনে অর্গানোগ্রামে ৩৭০টি স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৭৮ জন।
প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের ঘাটতি; চুক্তিভিত্তিক আইনজীবী না থাকা ও মামলা পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ; সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়, সহযোগিতা ও যোগাযোগের অভাব দেখা যাচ্ছে।
ফরমালিন আমদানিতে তদারকি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের অভাব; খাদ্যের নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা; পরীক্ষাগারে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবলের অভাব; এবং খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে গবেষণা প্রতিবেদনে।
গবেষণায় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট উদাহরণ বর্ণনা করা হয়। স্যানিটারি ইন্সপেক্টররা খাদ্যপ্রস্তুতকারী রেঁস্তোরা বা বেকারি ও খুচরা বিক্রেতা পরিদর্শনে ঘুষ গ্রহণ করেন।
বিএসটিআই’র ফিল্ড অফিসার খাদ্য কারখানা পরিদর্শনে খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহে ঘুষের বিনিময়ে শৈথিল্য প্রদর্শন (ক্ষেত্রভেদে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও ফিল্ড অফিসারগণ ৫০০-১০০০০ টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন); মাসিক ভিত্তিতে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর কর্তৃক বড় দোকানদার, রেঁস্তোরা ও বেকারির মালিকের সাথে সমঝোতামূলক দুর্নীতি; স্যানিটারি ইন্সপেক্টর কর্তৃক আইনের ভয় দেখিয়ে মূল্য পরিশোধ না করে নমুনা সংগ্রহের বিষয় উল্লেখ করা হয়।
অনেক সময় জেলা প্রশাসন হতে নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রসিকিউশন কর্মকর্তারা ফিল্ডে হাজির হলেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ব্যস্ততা বা অনুপস্থিত।
সংবাদ সম্মেলনে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে কার্যকর আইনি কাঠামো বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক ও তদারকি ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৬ দফা সুপারিশ করা হয়।
[b]ঢাকা, জেইউ, ২০ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর[/b]
শ্রেণীহীন
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে দরকার আইনের কার্যকর প্রয়োগ
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে 'নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩' দ্রুত বলবৎ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনের কার্যকর প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)





