চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ৬ষ্ঠ দফায় আগামীকাল (সোমবার) ১২ উপজেলার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে । আর এ ১২ উপজেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থাকায় তাদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন(ইসি)।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে গতকাল (শনিবার) থেকে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। প্রতি উপজেলায় এক প্ল্যাটুন (৪০ জন) করে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের সঙ্গে রয়েছেন পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যা ব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য।
নির্বাচনের আগে ও পরে মোট পাঁচদিন সেনাবাহিনী নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে শনিবার মধ্যরাত থেকেই (রাত ১২টা) বন্ধ হয়েছে মিছিল-মিটিংসহ সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা। এছাড়া আজ (রোববার) মধ্যরাত থেকে এ ১২ উপজেলায় সব ধরনের যান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এ উপজেলাগুলোতে মোট ভোটার সংখ্যা ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮ লাখ ৬৯ হাজার ৯০১ জন এবং নারী ভোটার ৮ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫৫ জন। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৭২৪টি। আর ভোট কক্ষের সংখ্যা ৪ হাজার ৭৬৭টি।
সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ। ভোটের দিন এসব এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে ।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার সহকারি সচিব আশফাকুর রহমান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে শনিবার থেকে সেনাবাহিনী মাঠে রয়েছেন । তারা আগামী বুধবার পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি জানান, প্রতি উপজেলায় ১ প্লাটুন করে সেনা নিয়োজিত থাকবে। এছাড়াও প্রতি উপজেলায় সেনাবাহিনীর দুই থেকে তিনটি গাড়ি টহলে থাকবে। একই সঙ্গে থাকবে সেনাবাহিনীর কমান্ডিং অফিসার ও একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট।
নির্বাচনে মোবাইল ফোর্স হিসেবে পর্যাপ্ত র্যা ব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকছে। এ নির্বাচনে প্রতি কেন্দ্রে একজন পুলিশ (অস্ত্রসহ), অঙ্গীভূত আনসার একজন (অস্ত্রসহ), অঙ্গীভূত আনসার ১০ জন (মহিলা-৪, পুরুষ-৬ জন) এবং আনসার একজন (লাঠিসহ) ও গ্রামপুলিশ একজন করে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকবেন ।
তিনি আরও বলেন, তবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আরও বেশি ফোর্স মোতায়েন করা হবে। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ৪৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১২ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র গুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসি থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে সেসব কেন্দ্রে ভোট গ্রহন বন্ধ করে দেয়া হবে।
১২টি উপজেলায় ১৯৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬৯ জন এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭৫ জন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫২ জন।
নির্বাচন কমিশন ১৪ উপজেলায় ভোটগ্রহণের জন্য তফসিল ঘোষণা করে। তবে আইনি জটিলতার কারণে ষষ্ঠ ধাপে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
যে ১২টি উপজেলায় নির্বাচন : তফসিল অনুযায়ী রংপুর সদর, কাউনিয়া, গঙ্গাচড়া ও পীরগাছা, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ, বরগুনার তালতলী, কুমিল্লার আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ, রাজবাড়ীর কালুখালী, গাজীপুর সদর, টাঙ্গাইলের বাসাইল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় ভোট হবে।
উল্লেখ্য, এরই মধ্যে ৪র্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৫ দফায় দেশের ৪৮৭টি উপজেলা মধ্যে ৪৫৯টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
[b]ঢাকা, এএম, ১৮মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি[/b]
শ্রেণীহীন
১২ উপজেলায় ভোট সোমবার: সংখ্যালঘুদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা
চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ৬ষ্ঠ দফায় আগামীকাল (সোমবার) ১২ উপজেলার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে । আর এ ১২ উপজেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থাকায় তাদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন(ইসি)





