টঙ্গীর তুরাগ তীরে আজ শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মাধ্যমে  শুরু হয়েছে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গণজমায়েত ৪৯তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ লাখো মুসল্লির ঢল ইজতেমা প্রাঙ্গণে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব আমবয়ানের মধ্য দিয়ে সূচনা হয় ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা। বুধবার রাত থেকেই মূলত মুসল্লিরা আসতে শুরু করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নামতেই কানায় কানায় ভরে যায় ইজতেমা ময়দান।
আজ এখানেই অনুষ্ঠিত হবে বৃহত্তম জুমার নামাজের জামাত। সকাল থেকেই জনস্রোত ছুটছে টঙ্গীর ইজতেমা প্রাঙ্গণে জুমার জামাতে শরিক হতে। আসরের নামাজের পর অনুষ্ঠিত হবে যৌতুকবিহীন বিয়েপর্ব। ২৬ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে প্রথম পর্বের ইজতেমা শেষ হবে। চারদিন বিরতি দিয়ে দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ৩১ জানুয়ারি। এদিকে ইজতেমা উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। [img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1390540521.jpg[/img]
তৃতীয়বারের মতো এবারও ইজতেমা দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০১২ সাল থেকে এ ইজতেমা তিন দিনের বদলে দুই পর্বে মোট ছয় দিনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজক কমিটির সদস্য মাহফুজুল ইসলাম জানান, প্রথম পর্বের ইজতেমায় এসেছেন ৩২ জেলার মুসল্লিরা। তারা অবস্থান করছেন ৪০টি খিত্তায়।
বিশ্ব ইজতেমায় তুরাগের এপার-ওপার, মূল মাঠের চারপাশ, কামারপাড়া রোডসহ আশপাশের বিস্তৃত জায়গাজুড়ে নানা ব্যবস্থায় বিপুল সংখ্যক মানুষ অবস্থান নিয়েছে। অসংখ্য ছোট-বড় তাঁবু, দীর্ঘ শামিয়ানা, প্যান্ডেল, চট ও প্লাস্টিকের ছাউনি দেয়া পুরো ১৬০ একরের মাঠটি একটা বিস্তৃত উপত্যকার রূপ নিয়েছে।[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1390540810.jpg[/img]
বিশ্ব ইজতেমার মাঠ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ইউসুফ হায়দার জানান, ছোট-বড় মিলিয়ে পুরো মাঠে মোট ৪০টি খিত্তায় আড়াই শতাধিক মাইক স্থাপন করা হয়েছে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জামাত এরই মধ্যে ময়দানে পৌঁছে গেছে। এবার ইজতেমা-পরবর্তী কত সংখ্যক জামাত দেশ-বিদেশে রওনা হবে জানতে চাইলে তিনি বললেন, গতবার প্রায় ৬ হাজার জামাত আল্লাহর রাস্তায় বের হয়েছিল, এবার আমরা আশা করছি এ সংখ্যা আরও ২ হাজারের মতো বাড়বে অর্থাৎ এবার ৮ হাজার জামাত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবারের মতো এবারও মাঠের উত্তর পাশে মন্নু টেক্সটাইল মিলস এলাকায় বিভিন্ন সেবা সংস্থা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় মুসল্লিদের জন্য ফ্রি চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এখানে মোট ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ৪০টি স্টল নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ক্যাম্পে অসুস্থ হয়ে পড়া মুসল্লিদের দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে অনেকগুলো বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স।
বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি মুসল্লিদের যাতায়াত সুবিধা দিতে এবারও থাকছে বিশেষ ট্রেন ও বিআরটিসির বিশেষ বাস সার্ভিস। বাসগুলো কাকরাইল মৎস্য ভবন মোড় থেকে ইজতেমা চলাকালীন প্রতিদিন যাতায়াত করবে।
২৪ জানুয়ারি (টাইমনিউজবিডি)// জেআই