[b]মেলবোর্ন:[/b] অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি বছরের মতো এবারো শুরু হয়েছে তীব্র তাপদাহ। জানুয়ারি থেকেই মূলত অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে শুরু হয় তীব্র গরম। কয়েকটি স্টেটে এখন তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও অধিক। এদিকে, তীব্র গরমে দেশটির অন্তত ২৫৬টি জায়গায় দাবানল শুরু হয়েছে।
উত্তর গোলার্ধে যখন চলছে তীব্র শীত, সেখানে অস্ট্রেলিয়াসহ দক্ষিণ গোলার্ধে চলছে গ্রীষ্মকাল। আর গ্রীষ্মের তাপদাহের সাথে শুরু হয়েছে দাবানল। বুধবার পর্যন্ত ২৫৬টি স্থানে দাবানলের খবর পাওয়া গেছে। খবর আল জাজিরার।
তীব্র তাপদাহ ও দাবানল মূলত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় স্টেটগুলোকে আক্রান্ত করেছে। অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় তিনটি স্টেট হচ্ছে- ভিক্টোরিয়া, সাউথ অস্ট্রেলিয়া ও ইস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া।
দেশটির ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানিয়েছেন, ভিক্টোরিয়া রাজ্যে ১৮টি দাবানল ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণের আওতায় এসেছে। আরো ২০টি দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে, এখনো পর্যন্ত রাজ্যটিতে বাড়িঘর বা জানমালের কোন ক্ষতি হয়নি বলে তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
ভিক্টোরিয়া রাজ্যের রাজধানী মেলবোর্নে ৪২ ডিগ্রি তাপমাত্রার মধ্যে খেলতে নেমেছিলেন একদল টেনিস খেলোয়াড়। কিন্তু প্রচণ্ড গরমে তারা মাঠে টিকতে পারেননি। খেলোয়াড়দের অধিকাংশই বমি করেছেন ও অচেতন হয়ে পড়েন।
এদিকে, সাউথ অস্ট্রেলিয়া রাজ্যের রাজধানী অ্যাডিলেডে তাপমাত্রা রেকর্ড মাত্রার পৌঁছেছে। সেখানে মঙ্গলবার তাপমাত্রা ৪৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে।
তবে, দাবানল নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানা গেছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে বিমান থেকে পানি নিক্ষেপ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়াতেও চলছে ব্যাপক তাপদাহ। রাজ্যটির রাজধানী পার্থের কাছে এক বনে দাবানল ছড়িয়ে পড়লে অন্তত ৪৪টি বাড়ি পুড়ে যায়।
তীব্র তাপদাহ ও দাবানল তাসমানিয়া, নিউ সাউথ ওয়েলসেও ধীরে ধীর ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ। তীব্র গরমের সাথে বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় দাবানল খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
প্রসঙ্গত, গত বছর ছিল অস্ট্রেলিয়ার গত একশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণতম বছর। ১৯১০ সালের পর ২০১৩ সালটিই ছিল দেশটির ইতিহাসে উষ্ণতম বছর। সূত্র: আল জাজিরা
টাইম নিউজ/এসএমএ