[b]ঢাকা:[/b] ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে শিক্ষকদের এক মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শিক্ষকদের ওই সমাবেশে ২৬ হাজার ১শ’ ৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন তিনি।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সে ঘোষণার আজ এক বছর পূর্ণ হলো। কিন্তু জাতীয়করণের এক বছরেও সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাননি ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লক্ষাধিক শিক্ষক। এমনকি গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে আগের বেতন-ভাতাও বন্ধ রয়েছে। এমন  অভিযোগ করেছেন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক।
শামসুন্নাহার নামে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষক টাইম নিউজকে জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়  জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত গেছেন। এরপর আমাদের আর কোনো খোঁজ রাখেন নি। যার কারণে গত এক বছরে আমরা সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পায়নি।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1389249309.jpg[/img]
তিনি আরও জানান, গত সেপ্টেম্বর থেকে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়ার নাম করে আমাদের বেতন-ভাতাও বন্ধ রাখা হয়েছে। অর্থাভাবে অনেক কষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছি আমরা।
ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন করতে গিয়েও শিক্ষকরা নাজেহাল হয়েছে এমন অভিযোগ এনে কয়েকজন শিক্ষক বলেন, সমাজ গড়ার কারিগরদের ওপর এমন নির্যাতন কোন সমাজের জন্য কখনো কল্যাণকর হতে পারে না।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1389249177.jpg[/img]
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য একজন শিক্ষক বলেন, ‘একটানা ৪ মাস বেতন-ভাতা না পেয়ে ধার-দেনা করে চলতে হচ্ছে। সরকার  জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েও ১ বছরে তা বাস্তবায়ন না করায় আমাদের বহু কষ্টে চলতে হচ্ছে। জানি না আর কত দিন এইভাবে দিন কাটাতে হবে।’
এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব কাজী আকতার হোসেনের সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি টাইম নিউজকে জানান, ‘সব শিক্ষক জাতীয়করণের ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া চলছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী খুব শিগগিরই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৯ জানুয়ারি রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে শিক্ষকদের এক মহাসমাবেশে ২৬ হাজার ১শ’ ৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যদিয়ে এ সব বিদ্যালয়ে কর্মরত ১ লাখ ৩ হাজার ৮শ’ ৪৫ জন শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণ হয়ে যায়। জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা
সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের মতো বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা পাবেন বলেও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1389249219.jpg[/img]
এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শ্যামল কান্তি ঘোষ টাইম নিউজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয়করণ সংক্রান্ত যে ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমার নয়। মন্ত্রণালয় থেকে এখনো এ সংক্রান্ত কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমাদের
অধিদফতরের পৌছে নি। মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অথবা কোনো নির্দেশনা আসা মাত্র ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আসলে জাতীয়করণের ঘোষণা অনুযায়ী শিক্ষকরা কবে নাগাদ সকল সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন এমন প্রশ্নের জবাবে শ্যামল কান্তি ঘোষ বলেন, এক থেকে দুই মাস সময় লেগে যাবে। গত চার মাসের বকেয়া বেতন ইতোমধ্যে শিক্ষকদের দিয়ে দেওয়ার কথা শুনেছেন বলেও জানান তিনি।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1389249339.jpg[/img]
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয়করণের এ সিদ্ধান্ত তিন স্তরে কার্যকর করার কথা। এর মধ্যে গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ হাজার ৯শ’ ৮১টি রেজিস্টার্ড (এমপিওভুক্ত) বিদ্যালয়ের ৯১ হাজার ২৪ জন শিক্ষক এ সুবিধা পাওয়ার কথা। একই বছরের ১ জুলাই থেকে স্থায়ী-অস্থায়ী নিবন্ধনপ্রাপ্ত, পাঠদানের অনুমতিপ্রাপ্ত কমিউনিটি এবং সরকারি অর্থায়নে এনজিও পরিচালিত ২ হাজার ২শ’ ৫২টি বিদ্যালয়ের ৯ হাজার ২৫ জন শিক্ষক সুবিধা পাবেন বলে বলা হয়।
আর তৃতীয় স্তরে ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পাঠদানের অনুমতির সুপারিশপ্রাপ্ত ও পাঠদানের অনুমতির অপেক্ষাধীন ৯৬০টি বিদ্যালয়ের তিন হাজার ৭৯৬ শিক্ষক এ সুবিধা পাবেন।