মোবাইল নেটওয়ার্কের বিকল্প হতে যাচ্ছে ওয়াই-ফাই। ফলে মোবাইলের ইন্টারনেট ব্যবহার করতে কোনো ধরনের সিমের প্রয়োজন হবে না। এতে একদিকে গ্রাহকদের ব্যয় যেমন হ্রাস পাবে, অন্যদিকে মোবাইল ইন্টারনেট সেবার মানও উন্নত হবে। তবে এ ধরনের সেবা প্রসারের ফলে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর (এমএনও) ও ক্যাবল অপারেটরদের মধ্যে ব্যবসায়িক সংঘর্ষ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। খবর ওয়্যারডের।
প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবায় গত কয়েক বছরে অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। চলতি বছরেও এ খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। আর এ পরিবর্তন হতে পারে মোবাইল নেটওয়ার্কে ওয়াই-ফাইয়ের আধিপত্য বৃদ্ধির মাধ্যমে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বেশকিছু অঞ্চলজুড়ে রয়েছে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক। এখন এ সেবার মাধ্যমে ফোনকল পর্যন্ত করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে দেশটিতে ওয়াই-ফাই অঞ্চলের গ্রাহকরা মোবাইলের প্রচলিত নেটওয়ার্ক ব্যবহার থেকে সরে আসছেন।
ক্যাবল অপারেটররা তাদের স্যাটেলাইটের সংখ্যার পাশাপাশি সক্ষমতাও বৃদ্ধি করছে। এদিকে মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নেটওয়ার্কের পরিধিও দিন দিন বৃদ্ধি করছে। কিন্তু ক্যাবল অপারেটররা যদি বিশাল পরিসরে ওয়াই-ফাই সেবা চালু করে, সেক্ষেত্রে মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে ওয়াই-ফাই সেবা নেটওয়ার্ক খাতে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়ে পরিণত হচ্ছে। নেটওয়ার্কের প্রায় সব কাজই এখন ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে করা সম্ভব হচ্ছে। এদিকে বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিপণ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে চাহিদাপূর্ণ পণ্য হচ্ছে মোবাইল ডিভাইস।
কারণ এ মোবাইল ডিভাইসগুলোই কম্পিউটারের বিকল্প হয়ে গ্রাহকদের প্রয়োজন মেটাচ্ছে। নেটওয়ার্ক থেকে শুরু করে ইন্টারনেট ব্যবহারেও সর্বোচ্চ সেবা দিচ্ছে এ মোবাইল ডিভাইসগুলো।
এ কারণে বর্তমান বিশ্বের প্রযুক্তিগুলো অনেকটাই মোবাইল ডিভাইসকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। ওয়াই-ফাই সেবাও মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রসার লাভ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রযুক্তি বিশারদরা।
গ্রাহকরা সবসময়ই চান নতুন কিছু দেখতে। আর ইন্টারনেটের ব্যবহার ছাড়া নতুন অভিজ্ঞতা পাওয়া বর্তমান সময়ে একেবারেই সম্ভব নয়। এ কারণে গ্রাহকরা সাম্প্রতিক সময়ের যেকোনো গান শুনতে, চলচ্চিত্রের পাশাপাশি যেকোনো ভিডিও দেখতে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাচ্ছে। আর এক্ষেত্রে ওয়াই-ফাই হতে পারে সবচেয়ে ভালো সমাধান। কারণ ওয়াই-ফাই ব্যবহারে গ্রাহকদের ব্যয় বিপুল পরিমাণে হ্রাস পাবে।
আর বর্তমানে ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে ফোনকল থেকে শুরু করে নেটওয়ার্কের প্রায় সব ধরনের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু ওয়াই-ফাইয়ের ব্যাপক প্রসারের জন্য এ প্রযুক্তিটির আরো উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন বিশ্লেষকরা।
তাদের মতে, বিশ্বব্যাপী ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে প্রচুর বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। কিন্তু একে মূল সমস্যা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা।
মূল সমস্যা হচ্ছে, ওয়াই-ফাই মোবাইল নেটওয়ার্কের জায়গা দখল করলে মোবাইল নেটওয়ার্ক কোম্পানিগুলো তাদের বাজার হারাবে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিজন গ্রাহক প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৮৩ ডলার মোবাইল নেটওয়ার্কের পেছনে ব্যয় করছেন। কিন্তু ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে নেটওয়ার্কের ব্যবহার এ ব্যয়ের পরিমাণ অনেক হ্রাস করবে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে ওয়াই-ফাই হটস্পটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১১ সালে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াই-ফাই হটস্পটের সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ, সেখানে ২০১৫ সাল নাগাদ এর সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৮ লাখে।
বর্তমানে দেশটির প্রতি ১০ জনের ৯ জনই দিনে ১৯ ঘণ্টা ওয়াই-ফাইয়ে ব্যয় করেন। আগামী সময়ে হটস্পটের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ব্যবহারের হারও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে অভিমত বিশ্লেষকদের।
ওয়াই-ফাইয়ের এ ধরনের প্রসার অনেককেই অবাক করেনি। কিন্তু অবাক করার বিষয় হচ্ছে, ওয়াই-ফাই ক্রমেই নেটওয়ার্কের জায়গায় হানা দিচ্ছে। ফলে প্রচলিত নেটওয়ার্ক ব্যবসা হুমকির মুখে পড়বে বলে ধারণা বাজার বিশ্লেষকদের।
বর্তমানে দেশটির বেশ কয়েকটি ক্যাবল অপারেটর নিজেদের মধ্যে ওয়াই-ফাই সেবা সরবরাহে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা করছে। দেশটির টাইম ওয়ার্নার ক্যাবল, এক্সফিনিটি, অপটিমাম, ব্রাইট হাউস নেটওয়ার্ক ও কক্স কমিউনিকেশনের মতো শীর্ষ স্থানীয় ক্যাবল অপারেটররাও রয়েছে। তারা নিজেদের মধ্যে সেবার লেনদেন করে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের পরিধি বৃদ্ধি করবে। এ চুক্তি স্বাক্ষর হলে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ এলাকা ওয়াই-ফাইয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
এদিকে এশিয়া মহাদেশেও এ প্রযুক্তির ছোঁয়া পড়তে যাচ্ছে বলে অভিমত বিশ্লেষকদের। কারণ নেপাল এরই মধ্যে পুরো দেশকে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী সময় ওয়াই-ফাই সেবা গ্রাহকদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে যাবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক কোম্পানিগুলো তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় পড়বে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা
শ্রেণীহীন
মোবাইল নেটওয়ার্কের বিকল্প হতে যাচ্ছে ওয়াই-ফাই
মোবাইল নেটওয়ার্কের বিকল্প হতে যাচ্ছে ওয়াই-ফাই। ফলে মোবাইলের ইন্টারনেট ব্যবহার করতে কোনো ধরনের সিমের প্রয়োজন হবে না। এতে একদিকে গ্রাহকদের ব্যয় যেমন হ্রাস পাবে, অন্যদিকে মোবাইল ইন্টারনেট সেবার মানও উন্নত হবে।





