[b]ঢাকা: [/b]জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিশেষ উপদেষ্টা ববি হাজ্জাজ বলেছেন, নির্বাচনে যাচ্ছেন না বলেই এরশাদকে আটকে রাখা হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার বিষয়ে চেয়ারম্যান কিছুই জানেন না।
শনিবার সকালে লন্ডন থেকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব এ তথ্য জানিয়ে সরকারের এই একতরফা প্রহসনের নির্বাচন বন্ধেরও আহ্বান জানান।
তিনি বলেন,যারা ইলেকশনে যাচ্ছেন, তারা নিজ দায়িত্বে যাচ্ছেন। তারা নিজেদের যা খুশি বলতে পারেন। এরশাদ নির্বাচনে যাচ্ছেন না বলেই তিনি দেশবাসীর সামনে আসতে পারছেন না।
ববি হাজ্জাজ বলেন,যারা দেশকে ভালবাসেন,যারা গণতন্ত্রকে ভালবাসেন তারা এই নির্বাচনে যেতে পারেন না।
[b]ববি হাজ্জাজের ভিডিও বক্তব্যের পূর্ণ বিবরণ-[/b]
বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম।
গত ২রা জানুয়ারি সকাল বেলা জাতীয় পার্টির কিছু নেতা, নেতৃবৃন্দ একটা প্রেস কনফারেন্স করেছেন।তারা জাতীয় পার্টির নির্বাচনী ইশতেহার জাতির কাছে,মিডিয়ার কাছে উপস্থাপন করেছেন।এই ইশতেহার উপস্থাপন করার সময় তারা বলেছেন এটা চেয়ারম্যান দ্বারা অনুমোদিত।যে ইশতেহার তারা উপস্থাপন করেছেন সেটা একভাবে চেয়ারম্যান দ্বারা অনুমোদিত কারন চেয়ারম্যান সাহেবই এটা প্রস্তুত করেছিলেন,আমরা সবাই এটার সাথে জড়িত ছিলাম। কথা ছিল যদি আমরা নির্বাচনে যাই তাহলে এটার একটা র“পরেখা আমরা দেশবাসীর কাছে উপস্থাপন করব।
যে নেতৃবৃন্দ প্রেস কনফারেন্স করেছেন তারা দাবি করেছেন চেয়ারম্যান সাহেব অসুস্থ বলে আসেননি এবং আমাদের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও সাবেক ফাস্ট লেডি রওশন এরশাদ অসুস্থ বলে আসেননি। এবং আমাদের আরেকজন সিনিয়র প্রেসিডিয়াম মেম্বার এবং সাবেক মন্ত্রী জি এম কাদের সাহেব ক্যাম্পেইনে ব্যস্ত বলে আসেননি এবং পার্টির মহাসচিব যার মূল দায়িত্ব এই প্রেজেন্টেশনগুলো করা উনি ক্যাম্পেইনে ব্যস্ত বলে আসেননি।যেখানে পুরো দেশবাসী জানে,আমারা সবাই জানি জি এম কাদের সাহেব,রুহুল আমিন হাওলাদার সাহেব উনারা ক্যাম্পেইন করছেন না। তারা এই ৫ তারিখের প্রহসনের নির্বাচনে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছিলেন,কিন্তু সরকার সেটা গ্রহন করতে দেননি রির্টানিং কর্মকর্তাদের। তাদের নাম নিয়ে এই ধরনের মিথ্যাচার দেশবাসী গ্রহন করবে না।
চেয়ারম্যান সাহেব এই ইলেকশনে যাবেন না। উনি বারবার বলেছেন,উনার হয়ে আমি বলেছি এবং উনি যাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন তারা সবাই বলেছে।এবং উনার হয়ে উনার দস্তখত করা চিঠি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে গিয়েছিলাম।আপনারা সেটা মিডিয়াতেও দেখেছেন এবং সেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশ্যে আমরা পুরো পার্টির পক্ষ থেকে অনুরোধ করেছিলাম “লাঙ্গল” প্রতীক কাউকে বরাদ্দ না দিতে।জাতীয় পার্টি দল হিসাবে এই নির্বাচনে অংশগ্রহন করছে না।চেয়ারম্যানের নাম নিয়ে যে কথাগুলো বলা হ”েছ সেগুলো পুরোপুরি ভুল।দেশবাসীর ভিতর এবং পুরো পার্টির ভিতর বিভ্রান্ত করার এটা একটা প্রচেষ্টা।
যারা ইলেকশনে যাচ্ছেন তারা নিজেরা যাচ্ছেন,নিজ দায়িত্বে যাচ্ছেন ।তারা নিজেদের যা খুশি বলতে পারেন।চেয়ারম্যান সাহেব নির্বাচনে যাচ্ছেন না এবং সেই কারণে তিনি দেশবাসীর সামনে আসতে পারছেন না। কারণ দেশবাসীর সামনে আসলে উনি এটাই বলবেন যে উনি নির্বাচনে যাচ্ছেন না।
যারা দেশকে ভালবাসেন,যারা গণতন্ত্রকে ভালবাসেন তারা এই নির্বাচনে যেতে পারেন না।সুতরাং আমি আহ্বান জানব দেশবাসীর প্রতি এবং জাতীয় পার্টির সব নেতা-কর্মীর প্রতি এই ধরনের একটা নির্বাচন,যেখানে গণতন্ত্রকে খুন করা হচ্ছে,এই ধরনের নির্বাচনে আপনারা অংশ নিবেন না।





