আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) আবারও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ভেঙে দিয়ে নতুন একটি সম্পূর্ণ বেসামরিক প্রতিষ্ঠান গঠনের পরামর্শ দিয়েছে। এর আগে এ বাহিনীর কার্যক্রম মূল্যায়ন ও রূপান্তরের কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে একটি কমিশন গঠন করারও সুপারিশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে র‌্যাবকে নিয়ে এসব পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনের র‌্যাব-বিষয়ক অংশে এ বাহিনী ভেঙে দিয়ে এমন একটি বেসামরিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে বলা হয়, যেটি মানবাধিকারকে মূল ভিত্তি হিসেবে ধরে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেবে। নতুন বাহিনীর কর্মকর্তা ও অন্য সদস্যদের সামরিক বাহিনী থেকে না নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছে, এরা আইন প্রয়োগের বিষয়ে যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত নন।
র‌্যাব ভেঙে দেওয়ার আগ পর্যন্ত কিছু বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয় এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের র‌্যাবে নিয়োগ দেওয়ার যে রীতি চলছে, তা বন্ধ করা উচিত এবং ভবিষ্যতে কর্মরত সেনাসদস্যদের আইন প্রয়োগের মতো কোনো দায়িত্বে নিয়োগ নিষিদ্ধ করতে আইন সংশোধন করা উচিত।
প্রতিবেদনে র‌্যাবের কর্মকাণ্ড যাচাই করতে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করার সুপারিশ করা হয়। এই কমিশন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ গুরুতর অভিযোগে জড়িত মনে করা হয়, এমন র‌্যাব সদস্যদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনবে। র‌্যাবকে একটি নতুন সংস্থায় রূপান্তরিত করতে একটি কর্মপরিকল্পনা করতে হবে, যারা আইনের আওতায় থেকে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে কাজ করবে।
সুপারিশে বলা হয়েছে, স্বাধীন কমিশনটি গঠিত হওয়া উচিত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিবর্গ, নিরপেক্ষ বিচারপতি ও আইনজীবী এবং মানবাধিকার বিষয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে। এতে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকা উচিত। কমিশনের সরকারের সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্রে প্রবেশাধিকার ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করার ক্ষমতা থাকবে। কমিশন তদন্ত শেষ করে সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে, যাতে র‌্যাব সংস্কারে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ থাকবে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট বিশেষ বিভাগ, যেমন বিচারবহির্ভূত হত্যা, সংক্ষিপ্ত বিচারে বা স্বেচ্ছাচারী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর-বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিকে তদন্ত ও সুপারিশের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া গুম হওয়া থেকে সুরক্ষা ও নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের ঐচ্ছিক প্রটোকল অনুসমর্থন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী বা আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণে যোগ দিতে আবেদনকারী সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের অতীত কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকা সদস্য যাতে এতে অন্তর্ভুক্ত হতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
[b]ঢাকা, ০১ মে, (টাইমনিউজবিডি.কম)// এনএস[/b]