ফেনী শহরের একাডেমী এলাকায় ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একরামুল হক একরামের (৪৭) গাড়িতে আগুন দিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় স্থানীয় একজন সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন আরো ৪জন। 
এ ঘটনায় স্থানীয়রা ঢাকা-নোয়াখালী মহাসড়কে কয়েকটি বাস ও টেম্পু ভাঙচুর করে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে একরামুল হক ফেনী শহরের বাসা থেকে নিজ গাড়িতে করে ফুলগাজী যাচ্ছিলেন। একাডেমি রোডের স্টেডিয়াম ও বিলাসী সিনেমা হলের মাঝামাঝি পৌঁছার পর ১০-১২ জন দুর্বৃত্ত গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এরপরই তারা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে গুলিবিদ্ধ ও দগ্ধ হয়ে একরামুল হক ঘটনাস্থলেই মারা যান। গাড়ির চালকসহ অপর চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।  
আহতরা হলেন- একরামুল হক সম্পাদিত ফেনী প্রতিদিন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মহিবুল ফরহাদ (৩২), ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন শামু (৫০),মোহাম্মদ হোসেন (৩০) ও গাড়ি চালক মামুন (৩৫)।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1400577366.jpg[/img]
আহতরা জানান, স্টেডিয়াম ও বিলাসী সিনেমা হলের মাঝামাঝি পৌঁছার পর সন্ত্রাসীরা গাড়ি লক্ষ্য করে দুই পাশ থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে। এ সময় একরাম চেয়ারম্যান গুলিবিদ্ধ  হয়ে গাড়িতে লুটে পড়েন। কিছু বুঝে উঠার আগে সন্ত্রাসীরা গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। তারা তিনজন গাড়ি থেকে নামতে পারলেও চেয়ারম্যান নামতে পারেননি। এতে আগুনে পুড়ে চেয়ারম্যানের শরীর বিকৃত হয়ে যায়। পুলিশ ও দমকল বাহিনী গিয়ে আগুন নিভায়।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সদর হাসপাতাল রোড ও এর আশপাশের এলাকায় ভাংচুর চালায়্। একরামুলের হকের গাড়িটি পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ফেনীর পুলিশ সুপার পরিতোষ ঘোষ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। নিহত একরাম চেয়ারম্যানের লাশ ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। উত্তেজিত একরামের সমর্থকরা বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি শহরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড। জানা গেছে, উপজেলা নির্বাচনের আগে থেকে একরামের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটা গ্রুপের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। নির্বাচনের তিনদিন আগে জেলা যুবলীগের নেতা লোকমান হোসেনসহ কয়েকজনকে গুরুতর আহত করে একরাম বাহিনীর লোকজন।
[b]ঢাকা, ২০ মে (টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস//এসএইচ[/b]