চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ৬ষ্ঠ দফায় ১২ উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল সোমবার। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬১জন, ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ)৬৯জন এবং ৪৯ জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ মোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭৯ জন।
এরমধ্যে অধিকাংশ প্রার্থীই দলের সমর্থন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জানা গেছে ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ-মহিলা) প্রার্থীর অধিকাংশই বিদ্রোহী। ৬ষ্ঠ দফার এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বিএনপির একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় বেকায়দায় রয়েছে তিন দলই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৬ষ্ঠ দফা উপজেলা নির্বাচনে বৃহত্তর রংপুরের ৪ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বেকায়দায় রয়েছে আওয়ামীলীগ-জাতীয় পার্টি। দলীয় হাইকমান্ড থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের  নির্দেশ  দেয়ার পরও বিদ্রোহীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেনি।
এমনকি বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য  জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সম্প্রতি ৪ দিনের সফরে রংপুর গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বিদ্রোহী প্রার্থীদের দলের সম্মান রক্ষার জন্য মনোনয়নপ্রত্র প্রত্যাহার করতে বলেন। কিন্তু তার (এরশাদের) নির্দেশনায় কর্ণপাত করেননি   তারা (বিদ্রোহী প্রার্থীরা)।  হতাশ হয়ে ফিরে  আসেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
এদিকে, রংপুর সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ সমর্থন দিয়েছে নাসিমা জামান ববিকে। এছাড়া আওয়ামীলীগ নেতা রংপুর বিএমএ'র সভাপতি ডা. দেলোয়ার হোসেনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রংপুর সদর উপজেলাতে জাতীয় পার্টির দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে সুলতানা আখতার কল্পনাকে  জাতীয় পার্টি সমর্থন দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জাপা নেতা আবেদ আলী। এছাড়া এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন। তবে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী রংপুরের ৪ উপজেলার একটিতে প্রার্থী দিলেও তিনটিতে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে।  
এদিকে গঙ্গাচড়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী রুহুল আমিন। বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু ও সদস্য প্রতাপ চন্দ্র রায়। জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী সামসুল আলম। বিদ্রোহী হিসেবে লড়ছেন মতিয়ার রহমান। বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন একক প্রার্থী হলেও এখানে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন শফিকুল ইসলাম। অন্য দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
একইভাবে কাউনিয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন তিনজন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দুজন। আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড সমর্থিত বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মায়া। আর বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে রয়েছেন নাগরিক কমিটির ব্যানারে আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন, জাতীয় পার্টির সামছুল ইসলাম ভরসা ও সিপিবির রফিকুল ইসলাম।
এদিকে, টাঙ্গাইলের বাসাইলে চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন ৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে রয়েছে ৬ জন, কুমিল্লার আদর্শ সদরে রয়েছে ছয়জন চেয়ারম্যান প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থী রয়েছে।
অন্যদিকে  নির্বাচনে গাজীপুর সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিএনপি সমর্থিত একক প্রার্থী মো. ইজাদুর রহমান মিলন। এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি। এখানে আওয়ামী লীগের চারজন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন- মো. আবদুল লতিফ, রীনা পারভীন, মো. শফিকুল ইসলাম ও ইউসুফ মোহাম্মদ সেলিম রেজা। এ ছাড়াও চেয়ারম্যান পদে সম্মিলিত ইসলামী ঐক্য পরিষদ সমর্থিত নাছির উদ্দিন খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন ছয়জন প্রার্থী। এখানে বিএনপি সমর্থিত একক প্রার্থী ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. আবু তাহের মুছুল্লী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে হাছিনা সরকার। ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, উপজেলা নির্বাচনের ৬ষ্ঠ দফার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন উপজেলার নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। পাশপাশি তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এছাড়া আগামী সোমবার (ভোটের দিন) বিএনিপসহ সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে গেলে তাদের প্রাণনাশেরও হুমকি দেয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে এ বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হলে তারা উল্টো বিএনিপর নেতা-কর্মীদের গ্রেফতা করছে।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে দলের বিদ্রোহি প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রতাহার করে নিয়েছে। ভোটের আগের দিনের মধ্যে যেসব উপজেলায় মনোনয়ন বঞ্চিতারা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেনি তারাও প্রত্যাহার করবে।
এ বিষয়ে আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ডঃ হাছান মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগ সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশ্বাস করে। আর তাই এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সব উপজেলা নির্বাচনই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে যে সব উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল তাদের অধিকাংশই মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। বাকি দুএকটি উপজেলায় যারা আছেন তারাও প্রত্যাহার করে নিবেন।
উল্লেখ্য, এরইমধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ১৪ উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তবে, আদালতের নির্দেশনায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার  নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। যে ১২টি উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সেগুলো হলো- রংপুরের সদর, কাউনিয়া, গঙ্গাচড়া, পীরগাছা, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ, বরগুনার তালতলি, টাঙ্গাইলের বাসাইল, গাজীপুর সদর, রাজবাড়ী কালুখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর ও কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর এবং সদর দক্ষিণ উপজেলা। একই তারিখে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন হবে। সেখানে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী তিনজন। এর আগে সারাদেশে ৪৮৭টি উপজেলার মধ্যে পাঁচ দফায় মোট ৪৫৯টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
[b]ঢাকা, ১৮ মে (টাইমিনিউজবিডি.কম) // কেবি[/b]