ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস-প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।

আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে সপ্রিম কোর্ট চত্বরে আইনজীবীদের এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সুপ্রিম কোর্টে সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হামলা, মহিলা আইনজীবীকে লাঞ্চিত ও তাণ্ডবের প্রতিবাদেই এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে খন্দকার মাহবুব দেশের বর্তমান অস্থিরতার জন্য শেখ হাসিনার ক্ষমতা ধরে রাখার মানসিকতাকে দায়ী করেছেন। শেখ হাসিনা অবিলম্বে পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করলেই সব অশান্তি দুর হয়ে দেশে শান্তির বন্যা বয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধী দলকে একদিকে রাস্তায় নামতে দেয়া হচ্ছে না, আবার অন্যদিকে বলা হচ্ছে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনের ডাক দিয়ে রাস্তায় নামছেন না-সরকারের শীর্ষ মহল থেকে এমন মন্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করে খন্দকার মাহবুব বলেন, “রাস্তায় পাগলা কুকুর নামলে সে রাস্তায় মানুষ থাকতে পারেনা।“

খন্দকার মাহবুব বলেন, ন্যায় বিচারের প্রতীক সুপ্রিম কোর্ট। বিচারের শেষ আশ্রয়স্থল এ বিচার বিভাগ। সেই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের উপর আঘাত করেছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা । অথচ মিথ্যাচার করছে পুলিশ।

তিনি অবিলম্বে আদালতের সম্মান রক্ষার স্বার্থে গত রোববার (২৯ ডিসেম্বর) আদালতে হামলাকারীদের অবিলম্বে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোরও জোর দাবি জানান।

পুলিশ কমিশনাসহ অফিসাররা দুঃসাহস দেখাচ্ছেন-এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, এর বিচার করতে হবে। প্রধান বিচারপতিকে সুয়োমুটো রুল ইস্যু করতে হবে। নইলে হাইকোর্টের কোন আইনজীবী প্রধান বিচারপতির আদালতে যাবেন না।

পুলিশ কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তিন পুলিশ অফিসার বর্তমানে বিচারের কাঠগড়ায়। আপনাদের শেষ ভরসা আদালত। বাড়াবাড়ি না করে দায়িত্ব পালন করুন। নিজেদের পাকিস্তানী পুলিশ মনে করবেন না। দেশে আপনাদের স্বজনরা বাস করেন। তাদের হুমকির মুখে ফেলবেন না। দায়িত্ব পালনের বাইরে কাজ করলে দিন বদলের পরিবর্তন হলে কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ জে মোহাম্মদ আলী, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, বারের সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান, অ্যাডভোকেট আশরাফুজ্জামানসহ অন্যরা।

উল্লেখ্য, গত ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর বিরোধী দলের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচি প্রতিরোধ করতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা সুপ্রিমকোর্টে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং আইনজীবীদের লাঞ্ছিত করে।