টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সেনানিবাসে প্রশিক্ষণ চলাকালে মর্টার সেল বিস্ফোরণে নিহত বিজিবি’র সিপাহী একরামুল হকের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের সদস্যদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠছে আকাশ বাতাস।
চার মাস বয়সী ইরিনা মায়ের কান্ন দেখে ফেল ফেল করে চেয়ে আছে মায়ের মুখ পানে। একরামুলের পিতা যাকে পাচ্ছে তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করছে। তার মা ছেলের কথা বলতে বলতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।
সিপাহী একরামুল হক। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম চান্দুলিয়ার মফিজুল ইসলাম ও নাজমিন নাহারের সন্তান। এসএসসি পাশ করে ৬ বছর আগে তিনি বিজিবিতে চাকরী নেন। সর্বশেষ জয়পুরহাট বিজিবিতে কর্মরত ছিলেন। ২ বছর আগে লিজাকে বিয়ে করেছেন, তাদের ৪ মাস বয়সী ইরিনা নামের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
কথা ছিল,এবার বাড়ী এসে স্ত্রী সন্তানদের কর্মস্থলে নিয়ে যাবেন। তা আর করা হলনা। নিজেই এলেন লাশ হয়ে। স্ত্রীর সাথে সর্বশেষ কথা হয় বুধবার সকালে। সেলফোনে একরামুল বলেছিলেন,আমি ফায়ারিংয়ে যাচ্ছি।
প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে বুকফাটা আর্তনাদ করছেন তার মা-বাবা। আর স্বামীকে হারিয়ে আর্তনাদ করতে করতে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ছেন একরামুলের স্ত্রী লিজা। সরকারের কাছে তাদের একটাই দাবী,৪মাস বয়সী শিশু ইরিনার সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে সরকার যেন দায়িত্ব নেন।
ঢাক, ১৩ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসআর